রিফারবিশড বা পুনর্নির্মিত কম্পিউটার ও ল্যাপটপের বাজার চলতি বছর ১ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছতে পারে। আগামী পাঁচ বছরে বাজারটির আকার দেড় হাজার কোটি ডলার ছাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বাজার গবেষণা সংস্থা মরডর ইন্টেলিজেন্স।
কম্পিউটার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যবহার করা বা নানা কারণে ফিরিয়ে নেয়া কম্পিউটার, ল্যাপটপ বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস পরীক্ষা, মেরামত ও হালনাগাদের পর রিফারবিশড বাজারে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়। রিফারবিশড ডিভাইসগুলো সাধারণত নতুনের চেয়ে সস্তা হয়, কিন্তু ভালো মান বজায় থাকে। সেকেন্ড হ্যান্ড ডিভাইস সরাসরি কোনো ব্যবহারকারীর কাছ থেকে কিনে নেয়া হয়ে থাকে। সেখানে কোনো গ্যারান্টি বা সার্টিফায়েড চেকিং থাকে না। কিন্তু রিফারবিশড ডিভাইস পেশাদার টেকনিশিয়ান দ্বারা পরীক্ষা ও মেরামত করা হয়, দরকারে নতুন যন্ত্রাংশ লাগানো হয় এবং সব দিক থেকে নতুনের মতো বানানো হয়।
মরডর ইন্টেলিজেন্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের অংশ হিসেবে কোম্পানিগুলো পুরনো ডিভাইসকেই পুনরায় ব্যবহারের জন্য নতুন করে তৈরি করছে।
গ্লোবাল মার্কেট ইনসাইটসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিফারবিশড কম্পিউটার ও ল্যাপটপের বাজার বাড়ছে মূলত পরিবেশবিষয়ক সচেতনতা ও টেকসই উদ্যোগের কারণে। বর্তমানে ইলেকট্রনিক বর্জ্য (ই-ওয়েস্ট) একটি বড় সমস্যায় পরিণত হওয়ায়, মানুষ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ইলেকট্রনিক ডিভাইস পুনর্ব্যবহার ও পুনর্নির্মাণ করছে। এতে করে নতুন পণ্য তৈরি থেকে সৃষ্ট কার্বন নিঃসরণ কমে যাচ্ছে।
আজকাল রিফারবিশড কম্পিউটার ও ল্যাপটপের উচ্চ চাহিদা দেখা যায় শিক্ষার্থী ও উন্নয়নশীল দেশের স্কুলগুলোয়। কারণ এগুলো তুলনামূলক সস্তা। কভিড-১৯ মহামারীর সময় ডিজিটাল সাক্ষরতা ও অনলাইন শিক্ষার চাহিদা বাড়ার কারণে রিফারবিশড ডিভাইসের ব্যবহার আরো বেড়েছে।
অন্যদিকে ই-কমার্স সাইট বা অনলাইন কেনাকাটা সহজ হওয়ায় এসব ডিভাইসের বিক্রিও বাড়ছে। এসব প্লাটফর্মে পণ্য যাচাই, বিস্তারিত বর্ণনা, ব্যবহারকারীর পর্যালোচনা ও প্রতিযোগিতামূলক দাম থাকায় ক্রয় প্রক্রিয়া আরো সহজ হয়। অনলাইন বিক্রির মাধ্যমে ছোট পুনর্নির্মাণকারী কোম্পানিগুলো আন্তর্জাতিক গ্রাহকের কাছে পৌঁছতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণত নতুন পণ্যের তুলনায় রিফারবিশড ডিভাইস ৩০-৭০ শতাংশ সাশ্রয়ে কেনা যায়।
রিফারবিশড ল্যাপটপ বা পিসির প্রক্রিয়া শুরু হয় ক্রেতাদের ফিরিয়ে দেয়া করা পুরনো বা ত্রুটিপূর্ণ ডিভাইস সংগ্রহের মাধ্যমে। এগুলোর মধ্যে থাকতে পারে ভাঙা স্ক্রিন, হার্ডওয়্যার সমস্যা বা পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত ডিভাইস। প্রতিটি ডিভাইস বিশেষজ্ঞ দিয়ে খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হয়। ড্যামেজড পার্টস সরিয়ে নতুন পার্টস স্থাপন করা হয়, যেমন স্ক্রিন, ব্যাটারি, চিপসেট ইত্যাদি। এরপর ডিভাইসটি ভেতর-বাহির ভালোভাবে পরিষ্কার করা হয় এবং একাধিকবার পরীক্ষা করা হয় যেন কোনো ত্রুটি না থাকে। মেরামতের পর ল্যাপটপ বা পিসিটির অবস্থা অনুযায়ী গ্রেডিং করা হয়।
মার্কেট রিসার্চ ইনসাইটসের তথ্যানুযায়ী রিফারবিশড ইলেকট্রনিকস বাজারে শীর্ষে আছে অ্যামাজন রিনিউড, অ্যাপল, অ্যারো ডিরেক্ট, ডেল ও এইচপির মতো কোম্পানি। তৃতীয় পক্ষের মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে সার্টিফায়েড রিফারবিশড পণ্য বিক্রি করে অ্যামাজন, যেখানে প্রতিযোগিতামূলক দাম, দ্রুত শিপিং ও সহজ রিটার্ন সুবিধা রয়েছে। অন্যদিকে অ্যাপল রিফারবিশড ডিভাইসের মান, ওয়ারেন্টি ও পরিবেশবান্ধব দিক নিশ্চিত করে ব্যবহারকারীদের আস্থা অর্জন করছে।






















