জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব যে কতটা ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে চলেছে, তা আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল এক নতুন গবেষণা। প্রযুক্তি বিষয়ক জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম গ্যাজেটস ৩৬০-এর এক উদ্বেগজনক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধির কারণে ১০০ মিলিয়নেরও (১০ কোটিরও) বেশি ভবন ভয়াবহ বন্যার ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
কানাডার ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের (McGill University) নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং স্যাটেলাইট ডেটা ব্যবহার করে এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বরফ গলার হার এবং সমুদ্রের জলস্তর যে গতিতে বাড়ছে, তা অব্যাহত থাকলে এই শতাব্দীর শেষ নাগাদ বিশ্বের উপকূলীয় অঞ্চলগুলোর এক বিশাল অংশ প্লাবিত হতে পারে।
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে গ্লোবাল সাউথ
গবেষণা অনুযায়ী, এই দুর্যোগের সবচেয়ে বড় শিকার হতে চলেছে গ্লোবাল সাউথ বা বিশ্বের দক্ষিণাংশের উন্নয়নশীল দেশগুলো। বিশেষ করে আফ্রিকা এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উপকূলীয় দেশগুলোর অবকাঠামো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, দুর্বল অবকাঠামো এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলার সীমিত সক্ষমতার কারণে এই অঞ্চলের দেশগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গ্যাজেটস ৩৬০-এর প্রতিবেদনে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, এই গবেষণাটি শুধুমাত্র একটি সতর্কবার্তা নয়, এটি একটি জরুরি আহ্বান। জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহতা মোকাবেলা করতে এবং উপকূলীয় অঞ্চলের কোটি কোটি মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষা করতে এখনই সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। এর জন্য একদিকে যেমন কার্বন নিঃসরণ কমানোর মতো বৈশ্বিক উদ্যোগ নিতে হবে, তেমনি বন্যা প্রতিরোধে এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারও অপরিহার্য। এই সংকট মোকাবেলায় প্রযুক্তি কীভাবে সমাধান হিসেবে কাজ করতে পারে, সেই বিষয়টিই এই গবেষণার মাধ্যমে সামনে এসেছে।




















