জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদস্য (শুল্ক, নিরীক্ষা ও গোয়েন্দা) মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরী সরকারি অনুমোদন (জিও) অপব্যবহার করে অননুমোদিতভাবে অস্ট্রেলিয়া সফরের অভিযোগে এক বড় বিতর্কের মুখে পড়েছেন। তার এই সফরের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং এর সঙ্গে দুর্নীতির অভিযোগ যুক্ত হয়েছে।
জানা গেছে, গত ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ তারিখে মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরী ইন্দোনেশিয়া সফরের সরকারি অনুমোদন নিয়ে দেশত্যাগ করেন। কিন্তু তিনি ইন্দোনেশিয়ার পথে সিঙ্গাপুর ট্রানজিট দেখিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে যান, যা ভৌগোলিকভাবে ‘প্রায় অসম্ভব এবং অবাস্তব’ একটি রুট বলে সমালোচকরা দাবি করেছেন।
- টিকিট বিশ্লেষণ: তার সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের বিজনেস ক্লাসের ৪ লাখ ৬৩ হাজার টাকার টিকিট যাচাই করে স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায় যে, তিনি প্রাথমিকভাবে অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যেই ঢাকা ত্যাগ করেছিলেন।
- অননুমোদিত ভ্রমণ: তার এই অননুমোদিত অস্ট্রেলিয়া ভ্রমণের বিষয়টি সামনে এলে তিনি তড়িঘড়ি সিডনি ছেড়ে ইন্দোনেশিয়াতে যান।
এই অননুমোদিত অস্ট্রেলিয়া ভ্রমণের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশের প্রেক্ষিতে জবাব দাখিলের জন্য তিনি গত ০২/১০/২০২৫ খ্রি. তারিখে একটি আবেদনপত্রের মাধ্যমে অতিরিক্ত ১০ (দশ) কার্যদিবস সময় চেয়েছেন। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে, এনবিআর কর্তৃপক্ষ তার অননুমোদিত বিদেশ ভ্রমণ নিয়ে তদন্ত করছে।
দুর্নীতি ও ক্রিপ্টোকারেন্সির অভিযোগ:
মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরীর বিরুদ্ধে কেবল বিদেশ ভ্রমণের নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগই নয়, বরং তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান চলমান রয়েছে।
- ক্রিপ্টো বিনিয়োগ: তার বিরুদ্ধে ক্রিপ্টোকারেন্সিসহ বিদেশে বিপুল সম্পদ বিনিয়োগের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
- নেটওয়ার্কের মূলহোতা: তাকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন এমন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মকর্তার দাবি, এনবিআরের প্রভাবশালী কিছু কর্মকর্তার ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগ চক্রের মূলহোতা তিনি।
- রাজনৈতিক যোগাযোগ: তিনি বিগত সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী এবং কুখ্যাত পুলিশ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলামের সাথেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এক্ষেত্রে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সজ্ঞানে মিথ্যা তথ্য প্রদান এবং ক্রিপ্টোকারেন্সিতে তার বিনিয়োগের বিস্তারিত জানতে, মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরীর বিষয়ে অধিকতর ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।






















