বিশ্বব্যাপী জেনারেটিভ এআই বা জেনএআইয়ের বাজার চলতি বছর শেষে ৩ হাজার ৮০০ কোটি ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাবে। আগামী প্রায় এক দশকে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাজারটির আকার ১ ট্রিলিয়ন ডলার বা ১ লাখ কোটি ডলার ছাড়াবে। ২০২৫-৩৪ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী জেনএআইর বাজার প্রতি বছর গড়ে ৪৪ দশমিক ২ শতাংশ হারে বাড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রিসিডেন্স রিসার্চ।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, গত কয়েক বছর ধরে জেনারেটিভ এআই প্রযুক্তি খুব দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। বর্তমান যুগে যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বড় ভূমিকা রাখছে, সেখানে জেনারেটিভ এআইয়ের গুরুত্ব অনেক বেড়েছে। অধিকাংশ শিল্প ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করছে এবং কাজের প্রক্রিয়ায় এটি অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করছে। কিছু কিছু প্রতিষ্ঠানে এআই ব্যবহার বাধ্যতামূলকও করা হচ্ছে।
এআই বিশেষজ্ঞদের মতে, জেনারেটিভ এআই বা জেনএআই এমন একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি, যা মানুষের মতো টেক্সট, ছবি, ভিডিও ও অন্যান্য কন্টেন্ট তৈরি করতে সক্ষম। এ বাজারে শীর্ষ কোম্পানিগুলো হলো ওপেনএআই, মিডজার্নি, লাইট্রিকস, হাগিং ফেস ও অন্যান্য। এসব প্রতিষ্ঠান চ্যাটজিপিটি, বার্ড, জ্যাসপারএআইয়ের মতো প্রযুক্তি তৈরি করেছে। এদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটি। সম্প্রতি বিশ্বের সবচেয়ে দামি প্রাইভেট কোম্পানি হিসেবে ওপেনএআইয়ের বাজারমূল্য পৌঁছেছে ৫০ হাজার কোটি ডলারে।
প্রিসিডেন্স রিসার্চের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী জেনারেটিভ এআই বাজারে নেতৃত্ব দিচ্ছে উত্তর আমেরিকা। উদ্ভাবন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও নীতিমালা বিকাশে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে অঞ্চলটি।
এআই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদিও জেনারেটিভ এআই খাতের দ্রুত বিকাশ নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে, তবুও এর সঙ্গে চ্যালেঞ্জও বাড়ছে। প্রযুক্তিটির উত্থানের কারণে সেমিকন্ডাক্টর, হার্ডওয়্যার, ক্লাউড সফটওয়্যার, আইটি সার্ভিস ও বিজ্ঞাপন খাতে পুরনো ও প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলোর অবস্থান দুর্বল হতে পারে। এআই-নির্ভর নতুন প্রযুক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো পুরনো কোম্পানিগুলোর জায়গা দখল করতে পারে বা তাদের ব্যবসায়িক প্রভাব কমিয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা থেকে যায়।
প্রযুক্তি বিশ্লেষক মানদীপ সিংহ বলেন, ‘আগামী দিনে তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি), বিজ্ঞাপন ও সাইবার নিরাপত্তা খাতে জেনারেটিভ এআই আরো বড় ভূমিকা রাখবে। এসব খাতে বিনিয়োগ, ব্যয় ও কার্যক্রমের বড় অংশ এআই প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠবে এবং প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কাজকর্মে জেনারেটিভ এআইয়ের ব্যবহার আরো বাড়াবে।





















