ডিজিটাল সরকার ব্যবস্থা এবং দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একযোগে তিনটি বিশাল ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত ‘এনহ্যান্সিং ডিজিটাল গভর্নমেন্ট অ্যান্ড ইকোনমি (EDGE)’ প্রকল্পের আওতায় দেশে জাতীয় ডেটা সেন্টারের (NDC) জন্য সর্বাধুনিক ক্লাউড কম্পিউটিং প্ল্যাটফর্ম তৈরি, জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে একটি ‘ন্যাশনাল সিকিউরিটি অপারেশন সেন্টার (NSOC)’ প্রতিষ্ঠা এবং সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের ভিত্তি স্থাপনের জন্য দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিশেষায়িত ল্যাব স্থাপন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি)।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অধীনে বাস্তবায়নাধীন এই তিনটি মেগা উদ্যোগ দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
শক্তিশালী হচ্ছে জাতীয় ডেটা সেন্টার:
দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির চাকাকে আরও গতিশীল করতে জাতীয় ডেটা সেন্টারের (NDC) জন্য একটি অত্যাধুনিক ক্লাউড কম্পিউটিং প্ল্যাটফর্ম স্থাপন করতে যাচ্ছে সরকার। ‘এজ’ প্রকল্পের EDGE-GIB প্যাকেজের আওতায় এই প্ল্যাটফর্ম ডিজাইন, সরবরাহ এবং ইনস্টলেশন করা হবে। গত ০৭ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) এ সংক্রান্ত একটি আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত এই প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে দেশের সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো আরও উন্নত ও सुरक्षित ক্লাউড সেবা পাবে, যা ডিজিটাল পরিষেবা প্রদানে গতি আনবে। আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ১৯ নভেম্বর, ২০২৫ এর মধ্যে তাদের প্রস্তাবনা জমা দিতে বলা হয়েছে।
সাইবার নিরাপত্তায় আসছে ‘ন্যাশনাল সিকিউরিটি অপারেশন সেন্টার (NSOC)’:
দেশের ডিজিটাল সম্পদ এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামোকে সাইবার হামলা থেকে সুরক্ষিত রাখতে একটি কেন্দ্রীয় ‘জাতীয় নিরাপত্তা অপারেশন সেন্টার (NSOC)’ প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। ‘এজ’ প্রকল্পের EDGE-G20 প্যাকেজের অধীনে এই কেন্দ্রটি স্থাপন করা হবে। এই কেন্দ্রটি দেশের সাইবার নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ, হুমকি শনাক্তকরণ এবং দ্রুততম সময়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য একটি কেন্দ্রীয় হাব হিসেবে কাজ করবে। গত ১৬ জুন, ২০২৫ তারিখে এ সংক্রান্ত প্রি-প্রপোজাল সভায় বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন, যেখানে প্রকল্পের কারিগরি এবং মূল্যায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর খসড়া অনুযায়ী, সরকারি গোপনীয় ডেটা দেশের বাইরে রাখা যাবে না, তাই এই কেন্দ্রটি অন-প্রিমিস বা দেশেই স্থাপন করা হবে বলে সভায় জানানো হয়েছে।
সেমিকন্ডাক্টর গবেষণায় নতুন দিগন্ত:
চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা এবং দেশের মাটিতে সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ ডিজাইন ও উৎপাদনের ভিত্তি স্থাপনের লক্ষ্যে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপের অংশ হিসেবে দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তিনটি বিশেষায়িত সেমিকন্ডাক্টর ল্যাব স্থাপন করা হচ্ছে। ‘এজ’ প্রকল্পের EDGE-G13B1 প্যাকেজের অধীনে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) সেমিকন্ডাক্টর প্যাকেজিং, টেস্টিং এবং ফ্যাব্রিকেশন (ফ্যাব)-এর জন্য সর্বাধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হবে। এই ল্যাবগুলো মূলত অ্যাকাডেমিক গবেষণার কাজে ব্যবহৃত হবে, যার মাধ্যমে দেশে এই খাতে দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং উদ্ভাবনের পথ প্রশস্ত হবে। গত ২৯ মে, ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত প্রি-প্রপোজাল সভায় জানানো হয়, এই উদ্যোগটি দেশের জন্য একটি বিলিয়ন ডলারের বাজার তৈরির সম্ভাবনা উন্মোচিত করবে।
সব মিলিয়ে, ‘এজ’ প্রকল্পের অধীনে এই তিনটি বড় উদ্যোগ ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’-এ উত্তরণের পথে এক বলিষ্ঠ পদক্ষেপ এবং এটি দেশের প্রযুক্তিগত সার্বভৌমত্ব অর্জনে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।






















