সূত্র জানায়, থাকরাল ইনফরমেশন সিস্টেমস প্রাইভেট লিমিটেড ফেব্রুয়ারি ২০২৪ সালে ‘Enhancing Digital Government and Economy (EDGE)’ প্রকল্পের আওতায় জাতীয় ডেটা সেন্টারের ক্লাউড সিস্টেম সম্প্রসারণের কাজের জন্য ৪,৬৯৮,২৮৭.১১ মার্কিন ডলার (প্রায় ৪.৬ মিলিয়ন ডলার) মূল্যের প্রস্তাব দাখিল করে। এই প্রস্তাবটি ২৫ মে ২০২৫ তারিখে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) অনুমোদন দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এমন একটি ব্যয়বহুল ও নীতিগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের অনুমোদন পাওয়া স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
নিরাপত্তা ছাড়পত্র ছাড়াই বিদেশিদের প্রবেশের চেষ্টা
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে থাকরাল ইনফরমেশন সিস্টেমস গেটপাশের জন্য আবেদন করে, যেখানে জাতীয় ডেটা সেন্টার ও ডিজাস্টার রিকভারি সাইটে তাদের টেকনিক্যাল টিমের প্রবেশের অনুমতি চাওয়া হয়।
জানা যায়, এই টিমে নিউটানিকস প্রফেশনাল সার্ভিসেস-এর চারজন নেপালি নাগরিক অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। কিন্তু জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা (NSI) ও প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (DGFI) থেকে তাঁদের জন্য কোনো সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স বা নিরাপত্তা ছাড়পত্র নেওয়া হয়নি।
একজন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “জাতীয় ডেটা সেন্টার দেশের ডিজিটাল সার্বভৌমত্বের কেন্দ্র। এখানে বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশ নিরাপত্তা ছাড়পত্র ছাড়া অনুমোদন দেওয়া মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন সিদ্ধান্ত।”
গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকি
জাতীয় ডেটা সেন্টার ও ডিজাস্টার রিকভারি সাইটে দেশের সকল সরকারি তথ্যভাণ্ডার, সার্ভার এবং ই-গভর্নেন্স অবকাঠামো সংরক্ষিত। তাই এখানে প্রবেশের আগে প্রতিটি ব্যক্তির কঠোর নিরাপত্তা যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা আবশ্যক।
তবে এই প্রকল্পে বিদেশি কর্মীদের অননুমোদিত প্রবেশের চেষ্টা ও অনুমোদনের সময়কাল নিয়ে ওঠা প্রশ্ন এখন সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।
বিশেষজ্ঞদের দাবি
দেশের সাইবার নিরাপত্তা এবং তথ্য অবকাঠামো রক্ষায় এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
তাঁদের মতে, “জাতীয় ডেটা সেন্টারের মতো সংবেদনশীল স্থানে এ ধরনের অনিয়ম হলে তা কেবল প্রযুক্তিগত নয়, জাতীয় নিরাপত্তারও গুরুতর হুমকি তৈরি করতে পারে।”
থাকরাল ইনফরমেশন সিস্টেমস প্রাইভেট লিমিটেড এর সঙ্গে টেকজুম থেকে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়, তবে তারা ফোন রিসিভ করেননি। এছাড়া হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো মেসেজেরও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।






















