গত ২১ মে জারি করা সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশে অনলাইনে জুয়া খেলা, জুয়ার অ্যাপ বা পোর্টাল তৈরি, প্রচারণায় অংশ নিলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এ ধরনের অপরাধে দুই বছরের দণ্ড বা ১ কোটি টাকার অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। এ ছাড়া ২১ ও ২২ ধারায় জুয়া খেলার জন্য কোনো অর্থনৈতিক লেনদেন, জুয়া খেলা বিষয়ে কোনো প্রতারণা বা জালিয়াতি করাকেও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তারপরও থেমে নেই এই অপকর্ম। বেনামি ছাড়া পরিচিত ও বিশ্বস্ত অনলাইন, টিভি এমনকি বিলবোর্ডেও এসব জুয়ার বিজ্ঞাপন চলছে।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক কমিশনের (বিটিআরসি) পক্ষ থেকে এরই মধ্যে দিফায় দফায় দফায় বিভিন্ন লিংক ব্লক করলেও ক্রিকেট দুনিয়ার জনপ্রিয় পোর্টাল বাংলাদেশের ভিজিটরদের সামনে এসব বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে অনলাইন জুয়া বন্ধে ক্রিকইনফোকে ই-মেইল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যব। এই ই-মেইল সাড়া না দিলে পোর্টালটি বাংলাদেশ থেকে ব্লক করতে জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সির মাধ্যমে জনমত গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
১৩ অক্টোবর, সোমবার দিবাগত রাতে তিনি ফেসবুকে এক পোস্টে জানান, এককভাবে বাংলাদেশের সাইবার স্পেসে সবচেয়ে বেশি জুয়ার বিজ্ঞাপন দেয় ক্রিকইনফো ডটকম। অনলাইন জুয়ার প্রচার-প্রচারণা বিজ্ঞাপন ইত্যাদি বাংলাদেশের সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৫ এ নিষিদ্ধ। আমরা অস্ট্রেলিয়া ইংল্যান্ডসহ বেশ কিছু ক্রিকেট প্লেইং দেশের ক্রিকইনফো অ্যাডভার্টাইজমেন্ট স্টাডি করে দেখেছি সেখানে অনলাইন জুয়ার বিজ্ঞাপন শতভাগ অনুপস্থিত।
তিনি লিখেছেন, জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সি ক্রিকইনফোকে এ বিষয়ে ই-মেইল পাঠিয়েছে। পরবর্তীতে তাদেরকে ডাকযোগে রেজিস্ট্রি করে চিঠি পাঠানো হবে। একদিকে অবৈধভাবে জুয়ার বিজ্ঞাপন দিয়ে আইন ভঙ্গ করছে ক্রিকইনফো, অন্যদিকে জুয়ার বিজ্ঞাপন থেকে আয়ের ওপর আয়কর কিংবা ভ্যাট হিসাবে বাংলাদেশকে কোন অর্থ দেয়নি আইন পাসের আগে-পরে।
বিশেষ সহকারী লিখেন, জুয়ার বিজ্ঞাপন বন্ধ না করলে বাংলাদেশে ক্রিকইনফো ব্লক করার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত হবে কিনা, এ বিষয়ে জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সি জনমত সংগ্রহ করবে।
প্রসঙ্গত, নতুন অধ্যাদেশের অধীনে এরই মধ্যেই জুয়ার সঙ্গে জড়িত এগারো শ-এর বেশি মোবাইল ব্যাংকিং (এমএফএস) এজেন্ট শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে সরকারের অভিযান অব্যাহত থাকার কথা জানিয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ থেকে বলা হয়েছে, অনলাইন জুয়ায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িতদের পাশাপাশি বিভিন্ন পেশাজীবী, বিজ্ঞাপন দাতা কোম্পানি, মিডিয়া বায়ার, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার বিজ্ঞাপনদাতা এবং বিজ্ঞাপনগ্রহীতা সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।িএছাড়াও অনলাইন জুয়া নিয়ে অভিযোগ জানাতে notify@ncsa.gov.bd– মেইলে যোগাযোগ করতে পারবেন নেটিজেনরা।





















