বাংলাদেশের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন (Personal Data Protection Act) এবং জাতীয় ডেটা গভর্নেন্স ফ্রেমওয়ার্ক (National Data Governance Framework) নিয়ে কিছু বিদেশি প্ল্যাটফর্ম প্রতিনিধি ও তাদের স্থানীয় সহযোগীরা সাংবাদিক ও কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে—এমন অভিযোগের পর বিষয়টি নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, বাংলাদেশ কোনো একক কোম্পানি বা প্ল্যাটফর্মের জন্য আইন তৈরি করছে না। এই সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য নাগরিকদের গোপনীয়তা রক্ষা, ডিজিটাল ইকোসিস্টেমে আস্থা বৃদ্ধি এবং সকল প্রযুক্তি সংস্থার জন্য ন্যায্য, আইনসম্মত ও স্বচ্ছ পরিবেশ নিশ্চিত করা।
সরকারের বক্তব্যে বলা হয়েছে, “আমরা একটি প্রগতিশীল ও ভারসাম্যপূর্ণ পদ্ধতি গ্রহণ করেছি।”
এর অংশ হিসেবে—
-
ডেটা লোকালাইজেশন বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়া হয়েছে, অর্থাৎ কোনো প্রতিষ্ঠানকে শুধু বাংলাদেশেই তথ্য সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা থাকছে না।
-
প্ল্যাটফর্মগুলোকে বাংলাদেশের আদালতের অধিক্ষেত্রের আওতায় রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে, যা বৈশ্বিকভাবে স্বীকৃত মানদণ্ড—এতে ব্যবসা ব্যাহত না হয়ে দায়বদ্ধতা নিশ্চিত হয়।
-
তুলনামূলকভাবে, ভারত আর্থিক ডেটা লোকালাইজেশন বাধ্যতামূলক করেছে এবং ভিয়েতনাম ব্যক্তিগত তথ্যের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম প্রয়োগ করছে।
বাংলাদেশ, এর বিপরীতে, ‘ক্লাউড-ফার্স্ট পলিসি’ গ্রহণ করছে—যাতে উদ্ভাবন উৎসাহিত হয়, তবে জাতীয় সার্বভৌমত্বও অক্ষুণ্ণ থাকে।
সরকার আরও জানিয়েছে, নতুন আইনে থাকবে:
-
১৮ মাসের ট্রানজিশন পিরিয়ড, যাতে প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য আনতে পারে,
-
সম্মতি-ভিত্তিক ডেটা প্রসেসিং ও ফিডিউশিয়ারি কাঠামো,
-
এবং ইইউ, যুক্তরাজ্য ও আসিয়ান দেশগুলোর ডেটা সুরক্ষা নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যবস্থা।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “বাস্তবতা হলো—বাংলাদেশের ৫ কোটিরও বেশি নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য ইতিমধ্যে ডার্ক ওয়েবে ফাঁস হয়েছে। সফটওয়্যার শিল্প আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্স না মানার কারণে বিদেশি চুক্তি হারাচ্ছে। তাই শক্তিশালী ও আধুনিক তথ্য গভর্নেন্স এখন আর বিলাসিতা নয়, এটি জাতীয় প্রয়োজন।”
সরকারের বক্তব্যে জোর দিয়ে বলা হয়—“আমাদের লক্ষ্য একটিই: নাগরিকের তথ্য সুরক্ষা, ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং একটি নৈতিক ও আস্থাভিত্তিক ডিজিটাল ভবিষ্যৎ গড়া।”
তথ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, “বাংলাদেশ উন্মুক্ত সংলাপ ও দায়িত্বশীল অংশগ্রহণকে স্বাগত জানায়, তবে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল বা ভুল তথ্য প্রচারকারীদের কারণে জাতীয় সংস্কার ব্যাহত হতে দেওয়া হবে না।”






















