১৭ বছর আগে আইফোনের মাধ্যমে আধুনিক স্মার্টফোন যুগের সূচনা হয়। প্রায় দুই দশক পার করে এখনো প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলো এক্ষেত্রে নতুন উদ্ভাবন এবং পরিবর্তন আনার চেষ্টা করে যাচ্ছে।
সম্প্রতি স্মার্টফোনের পরবর্তী ধাপ হিসেবে আবির্ভাব হয়েছে হেডসেট ডিভাইস। এখন স্মার্টফোনের পাশাপাশি মিক্সড রিয়্যালিটি বা এক্সআর হেডসেট নিয়ে কাজ করছে কোম্পানিগুলো।
এরই ধারাবাহিকতায় অ্যাপলকে টেক্কা দিতে গুগল ও স্যামসাং যৌথভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত ‘গ্যালাক্সি এক্সআর’ হেডসেট বাজারে এনেছে।
এক্সআর হেডসেট চোখের সামনে ভার্চুয়াল এবং বাস্তব জগৎ একসঙ্গে দেখায় এবং ব্যবহারকারীকে সঙ্গে সঙ্গে ইন্টারঅ্যাকশন করার সুযোগ দেয়।
স্যামসাং মঙ্গলবার রাত থেকে ১ হাজার ৮০০ ডলারে (২ লাখ টাকার বেশি) গ্যালাক্সি এক্সআর বিক্রি শুরু করেছে। এ দাম অ্যাপল ভিশন প্রোর দামের প্রায় অর্ধেক।
প্রথম দিকের ক্রেতারা বিনামূল্যে গুগল জেমিনি এআই সহকারীর পেইড সংস্করণ ও এক বছরের ইউটিউব প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশনসহ বিভিন্ন ডিজিটাল সুবিধা পাবেন। এ হেডসেটের সফটওয়্যার তৈরি করেছে গুগল এবং চিপ তৈরি করেছে কোয়ালকম।
গ্যালাক্সি এক্সআর হাত নেড়ে, ভয়েস দিয়ে বা দুভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ডিভাইসটির ফোরকে ডিসপ্লেতে বাইরের বাস্তব জগতের চিত্রও দেখা যাবে। এতে ব্যবহারকারী হেডসেট পরে ঘরে হাঁটাচলা করলেও কোনো কিছুতে ধাক্কা লাগবে না। এর ডিজাইন অনেকটাই অ্যাপল ভিশন প্রোর মতো। বাঁকানো কাচ, মেটালিক ট্রিম ও ব্যাটারি প্যাকের বাহ্যিক স্থাপন দেখে অনেকে মন্তব্য করেছেন ভিশন প্রোর ডিজাইন অনুকরণ করেছে স্যামসাং ও গুগল।
যদিও এক্সআর হেডসেট এখনো বিশেষায়িত ও ব্যয়বহুল পণ্য, তবে স্যামসাং এটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করছে। হেডসেটটি ওয়ারবি পার্কার ও জেন্টল মনস্টারের মতো ব্র্যান্ডের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি এআই চশমার একটি প্রাথমিক ধাপ মাত্র। ভবিষ্যতের ডিভাইসগুলো গুগলের জেমিনি এআই সহকারীর ওপর নির্ভর করবে।
গ্যালাক্সি এক্সআরে জেমিনি ব্যবহার করে ভার্চুয়াল ওয়ার্কস্পেসে অ্যাপের উইন্ডো সাজানো, গুগল ম্যাপে ল্যান্ডমার্ক সম্পর্কে প্রশ্ন করা বা ভিডিও তৈরি করা সম্ভব। প্রদর্শনীতে জেমিনি ত্রুটিমুক্তভাবে কাজ করেছে। এটি ভিশন প্রোর চেয়ে এক ধাপ এগিয়েও বলে মনে করছেন অনেকে। কারণ ভিশন প্রোতে জেনারেটিভ এআই ফিচার নেই।
তবে জেমিনি ক্লাউডে ব্যবহারের কারণে এর নিরাপত্তা শঙ্কা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ব্যবহারকারীর হেডসেটে যা কিছু করা হচ্ছে তা ইন্টারনেট ব্যবহার করে গুগলের সার্ভারে প্রেরণ করতে হয়। প্রাইভেট ক্লাউড প্রযুক্তি না থাকায় ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।






















