রোবোটিকস কোম্পানিগুলো কেবল হার্ডওয়্যার তৈরিতে মনোযোগ দিচ্ছে। মানবসদৃশ রোবটকে কার্যকর করার মতো প্রকৃত বুদ্ধিমত্তা উন্নয়নে কর্মীদের যথেষ্ট জ্ঞান নেই বলে মন্তব্য করেছেন মেটার প্রধান এআই বিজ্ঞানী ইয়ান লেকুন। তার মতে, হিউম্যানয়েড স্টার্টআপ কোম্পানিগুলো একটি অদৃশ্য ‘বাবল’ বা বুদ্বুদ তৈরি করছে। ফলে রোবট নিয়ে মানুষের অতিরিক্ত প্রত্যাশায় তৈরি হওয়া এ বাবল ভবিষ্যতে ভেঙে পড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে (এমআইটি) আয়োজিত প্রথম ‘জেনারেটিভ এআই ইমপ্যাক্ট সিম্পোজিয়াম’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে লেকুন এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ‘গত কয়েক বছরে অসংখ্য রোবোটিকস কোম্পানি গড়ে উঠেছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হিউম্যানয়েড রোবট বানাচ্ছে। কিন্তু এসব কোম্পানির কেউই জানে না কীভাবে রোবটকে সত্যিকার অর্থে বুদ্ধিমান করা যায়। এসব রোবটকে প্রকৃত অর্থে কাজে লাগানো যাচ্ছে না।’
লেকুন আরো বলেন, ‘আমরা উৎপাদন শিল্পে ব্যবহারের মতো নির্দিষ্ট কিছু কাজের ক্ষেত্রে রোবটকে প্রশিক্ষণ দিতে পারি। কিন্তু ঘরে ব্যবহারের উপযোগী রোবট বানাতে গেলে এআই প্রযুক্তিতে আরো বেশকিছু বড় ধরনের অগ্রগতি প্রয়োজন।’
এদিকে কিছুদিন আগে জানা যায়, টেসলার পরবর্তী বড় প্রকল্প হিউম্যানয়েড রোবট অপটিমাস উন্মোচন করেছেন ধনকুবের ইলোন মাস্ক। টেসলার তৃতীয় প্রান্তিকের আয় প্রকাশের সময় বৃহদায়তনে ‘রোবট আর্মি’ গড়ার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। এ খবরের পর পরই লেকুনের মন্তব্য সামনে এল।
লেকুনের মতে, ‘ওয়ার্ল্ড মডেল’ বা পরিকল্পনাধর্মী এআই স্থাপত্যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আনা হবে তার ওপর এসব কোম্পানির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।’
বিশ্লেষকরা বলছে, লেকুন বোঝাতে চেয়েছেন যে বর্তমানের লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলগুলো এখনো মানবসদৃশ রোবট পরিচালনার মতো সক্ষম নয়। কারণ প্রযুক্তি শুধু লেখা (টেক্সট) পড়ে শেখার মাধ্যমে মানুষের মতো বুদ্ধিমান হতে পারবে না। এর জন্য দরকার ভিডিও বা বাস্তব জগতের মতো প্রাকৃতিক তথ্য থেকে শেখার ক্ষমতা।
তিনি আরো দাবি করেন, ‘একজন চার বছরের শিশু তার দৃষ্টিশক্তির মাধ্যমে যতটা তথ্য দেখে ও শেখে, আজ পর্যন্ত টেক্সটভিত্তিক ডাটা দিয়ে প্রশিক্ষিত সবচেয়ে বড় ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলও ততটা তথ্য পায়নি।’






















