দেশের ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী (আইএসপি) খাতের কিছু প্রতিষ্ঠান সংগঠিত DDoS (Distributed Denial of Service) আক্রমণের মাধ্যমে প্রতিদ্বন্দ্বীদের নেটওয়ার্ক ও ব্যবসা ধ্বংসের চেষ্টা করছে—এমন বিশ্বাসযোগ্য তথ্য-প্রমাণ সরকারের ও বিটিআরসি-র হাতে এসেছে।
একইসাথে, সাবেক সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কিছু কোম্পানির বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার বকেয়া এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানকে ভুয়া চেক দিয়ে প্রতারণার মতো গুরুতর আর্থিক অপরাধের প্রমাণও পাওয়া গেছে।
সরকার এই দুই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে অপরাধী কোম্পানির লাইসেন্স বাতিল এবং নতুন লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ায় তাদের অযোগ্য ঘোষণা করা।
DDoS হামলা: লাইসেন্স বাতিলের হুঁশিয়ারি
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, DDoS হামলায় দায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর সুনির্দিষ্ট নাম সরকারের হাতে এসেছে। বাংলাদেশের সাইবার সুরক্ষা আইন অনুযায়ী, কোনো নেটওয়ার্কে বেআইনি প্রবেশ, হ্যাকিং, বা ইচ্ছাকৃতভাবে সেবা বিঘ্ন ঘটানো একটি গুরুতর অপরাধ।
অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত এসব কোম্পানির মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা আসছে। তাদের বর্তমান লাইসেন্স বাতিল করা হতে পারে এবং তারা ভবিষ্যতে নতুন কোনো লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে না।
আর্থিক জালিয়াতি: বকেয়া ও ভুয়া চেকের প্রতারণা
অন্যদিকে, আরও কিছু আইএসপি কোম্পানি তাদের বিপুল পরিমাণ বকেয়ার কারণে লাইসেন্স নবায়ন বা শেয়ার হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় আটকে আছে।
অভিযোগ উঠেছে, এই কোম্পানিগুলো সরকারি বা বেসরকারি আইটিসি/আইআইজি (ITC/IIG) থেকে ব্যান্ডউইথ কিনে তার অর্থ পরিশোধ না করেই কৌশলে অন্য প্রোভাইডারে শিফট হয়েছে। সরকার সাফ জানিয়ে দিয়েছে, বকেয়া অপরিশোধিত রেখে কোনো লাইসেন্স নবায়ন করা হবে না।
আরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে যে, সাবেক সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কযুক্ত কিছু কোম্পানি (যেমন: আমরা নেটওয়ার্ক) কোটি কোটি টাকার বিল প্রদানের নামে সরকারি প্রতিষ্ঠানকে ভুয়া চেক দিয়ে প্রতারণা করেছে (চেক বাউন্স)। এসব গুরুতর আর্থিক অপরাধের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা ও মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
সকল আইএসপি-কে সরকারের কড়া বার্তা
এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার দেশের সকল আইএসপি প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত নিজেদের নেটওয়ার্ক সুরক্ষিত করার নির্দেশ দিয়েছে। বিটিআরসি জানিয়েছে, অবৈধ আক্রমণকারীদের তারা শনাক্ত করবে, তবে পাশাপাশি আইএসপিদেরও নিজেদের অবকাঠামোতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করতে হবে।
সরকারের পক্ষ থেকে সকল আইএসপি-কে নিম্নোক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ করা হয়েছে:
১. নিরাপত্তা জোরদার: দ্রুত অ্যান্টি-DDoS সেটআপ ও লোড-ব্যালান্সার স্থাপন এবং নেটওয়ার্ক নিরাপত্তায় যথাযথ বিনিয়োগ করা। ২. অন্যায় প্রতিযোগিতা বন্ধ: প্রতিদ্বন্দ্বিতা বন্ধ বা সীমিত করতে টার্গেটেড DDoS-এর মতো অন্যায় আচরণ অবিলম্বে বন্ধ করা। ৩. অপরাধীকে শনাক্তকরণ: “নিজের পরিচিত কিংবা ভাই-বেরাদার” ভেবে DDoS আক্রমণকারীদের নাম লুকিয়ে না রেখে, ক্ষতিগ্রস্তরা যেন একত্র হয়ে মামলা দায়ের করেন। ক্ষতিগ্রস্তরা মামলা করলে সরকার অপরাধ দমনে প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দিতে সক্ষম হবে।
সরকার জানিয়েছে, যৌথভাবে কাজ করার মাধ্যমেই বাংলাদেশের ইন্টারনেট সেবা খাতকে আরও সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ করা সম্ভব।






















