কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কার্যক্রমের জন্য বাড়তে থাকা বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে নতুন পরিকল্পনা করছে গুগল। টেক জায়ান্টটি সম্প্রতি ‘প্রজেক্ট সানক্যাচার’ নামের একটি গবেষণা প্রকল্প ঘোষণা করেছে। প্রকল্পের লক্ষ্য সৌরশক্তিচালিত স্যাটেলাইটে টেনসর প্রসেসিং ইউনিট (টিপিইউ) স্থাপন করে মহাকাশে এআই ডাটা সেন্টার তৈরি করা।
গুগলের মতে, এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য পরিবেশবান্ধব এবং অবিরাম শক্তির উৎস তৈরি করা। কারণ পৃথিবীতে এআই ডাটা সেন্টার প্রচুর বিদ্যুৎ ও পানি খরচ করে যা পরিবেশ ও বিদ্যুতের খরচ বাড়ানোর উদ্বেগ তৈরি করছে। এদিকে মহাকাশে সৌর প্যানেল পৃথিবীর তুলনায় আট গুণ বেশি শক্তি উৎপন্ন করতে পারে এবং প্রায় সারা দিন কাজ করতে সক্ষম।
গুগলের প্রকৌশলী ট্র্যাভিস বিলস বলেন, ‘ভবিষ্যতে, মহাকাশ হতে পারে এআই কম্পিউটিং ক্ষমতা বাড়ানোর সেরা জায়গা।’
তবে এ ধারণাকে বাস্তবে রূপ দেয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। গুগলের টিপিইউগুলো মহাকাশের উচ্চতর রেডিয়েশন বা বিকিরণ সহ্য করতে পারবে কিনা তা এরই মধ্যে পরীক্ষা করা হচ্ছে। ট্রিলিয়াম টিপিইউ পরীক্ষা অনুযায়ী, এগুলো পাঁচ বছরের মিশনের সময় মহাকাশের বিকিরণ থেকে উদ্ভূত তীব্র চাপও সহ্য করতে পারে এবং এতে কোনো গুরুতর ক্ষতি হয় না।
এছাড়া যোগাযোগও একটি বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারে। মহাকাশভিত্তিক এআই সেন্টারকে পৃথিবীর সেন্টারের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে অত্যন্ত দ্রুতগতির নেটওয়ার্কিং ব্যবস্থা প্রয়োজন। গুগলের মতে, স্যাটেলাইটের মধ্যে লেজার লিংক ব্যবহার (লেজারের মাধ্যমে উচ্চগতির, নির্ভরযোগ্য ও তারবিহীন ডাটা সংযোগ) করে প্রতি সেকেন্ডে ১০ টেরাবাইট হারে ডাটা স্থানান্তর করা। এর জন্য স্যাটেলাইটগুলোকে একে অন্যের কাছাকাছি মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরত্বে উড়তে হবে। যা মহাকাশে আবর্জনা ও সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়ায়।
টেক জায়ান্টটি বলছে, মহাকাশে ডাটা সেন্টার স্থাপনে খরচও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ বর্তমানে ব্যয়বহুল, তবে গুগল আশা করছে রকেট উৎক্ষেপণের খরচ কমার সঙ্গে সঙ্গে পরিচালনার খরচও কমবে।
কোম্পানিটির ধারণা, ২০৩০ সালের মাঝামাঝি সময়ে মহাকাশভিত্তিক ডাটা সেন্টারের পরিচালন খরচ পৃথিবীর সমতুল্য হবে।
তবে গুগল একা নয়। স্পেসএক্স ও অ্যামাজনসহ অন্যান্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানও মহাকাশে কম্পিউটিং অবকাঠামো চালুর পরিকল্পনা করছে বলে একাধিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।





















