দেশের স্মার্টফোনের বাজার অবৈধ বা ‘গ্রে’ মার্কেটের আইফোনে সয়লাব হয়ে গেছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বাজারে যে হারে আইফোন বিক্রি হচ্ছে, সে হারে বৈধ পথে আমদানি হচ্ছে না। এই বিপুল বিক্রির চাপ পুরোটাই আসছে অবৈধ চ্যানেল থেকে।
সম্প্রতি অবৈধ আইফোন জব্দের অভিযানে বিভিন্ন দোকানে শত শত আইফোনের খালি বাক্স পড়ে থাকতে দেখে শুল্ক ও আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের সন্দেহ আরও তীব্র হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, রাজধানীর অভিজাত শপিং মল থেকে শুরু করে অনলাইন শপগুলোতে প্রতিদিন হাজার হাজার আইফোন বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু কাস্টমস ও বিটিআরসি’র আমদানির খাতা দেখলে দেখা যায়, এই বিক্রির তুলনায় বৈধ আমদানির পরিমাণ খুবই নগণ্য।
এই বিশাল ফারাকই প্রমাণ করে যে, আইফোনের বাজারটি মূলত ‘গ্রে’ সিন্ডিকেটের দখলেই চলে গেছে। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে ‘লাগেজ পার্টি’ বা বিভিন্ন চোরাচালান সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এই ফোনগুলো দেশে ঢুকছে।
আইফোনের এই রমরমা অবৈধ বাণিজ্যের কারণে সরকার বছরে হাজার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব (শুল্ক ও ভ্যাট) হারাচ্ছে। অন্যদিকে, বৈধ আমদানিকারকরা অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
সবচেয়ে বড় প্রতারণার শিকার হচ্ছেন সাধারণ গ্রাহকরা। তারা নতুন ফোনের দামে ওয়ারেন্টিবিহীন, অনিরাপদ, এমনকি রিফারবিশড ফোন কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। এছাড়া, এই অবৈধ আমদানির মূল্য পরিশোধ করতে গিয়ে দেশ থেকে প্রতি মাসে কোটি কোটি ডলার ‘হুণ্ডি’র মাধ্যমে পাচার হয়ে যাচ্ছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করছে।
সরকার যখন আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (NEIR) ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে এই ‘গ্রে’ মার্কেট বন্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখনই আইফোনের এই অবৈধ বাণিজ্যের ভয়াবহ চিত্রটি সামনে এলো।






















