বাজারে কম দামে বিক্রি হওয়া আনঅফিসিয়াল (Grey Market) বা অবৈধ মোবাইল হ্যান্ডসেটগুলোর গুণগত মান ও সুরক্ষা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন গ্রাহক ও প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা। তাদের দাবি, সামান্য দাম কম হলেও এসব ফোন কেনা দীর্ঘমেয়াদে সম্পূর্ণ অসাশ্রয়ী, কারণ এই ফোনগুলোতে প্রায়শই ব্যবহৃত বা ত্রুটিপূর্ণ যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা হয়—যার মধ্যে রয়েছে ‘ব্যাটারি বুস্ট’ করা এবং পুরাতন ফোনকে সার্ভিসিং করে নতুন হিসেবে বিক্রি করা।
গ্রাহকরা বলছেন, “অফিসিয়াল ফোন দাম বেশি হলেও নিবো, ব্যাটারী বুষ্ট করা, সার্ভিস করা ফোন কিনতে চাই না।” এই বক্তব্যই প্রমাণ করে যে, বৈধ পণ্যের প্রতি গ্রাহকদের আস্থা এখনো অটুট।
যমুনা ফিউচার পার্ক থেকে আইফোন কিনে প্রতারণার শিকার হয়েছেন আনিকা নওরিন নামে এক নারী গ্রাহক। ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দেখে ফোনটি নতুন বলে কিনলেও, মাত্র ১৫ দিনের মাথায় তাতে বড় ধরনের ত্রুটি দেখা দেয়। পরে সার্ভিসিং করাতে গিয়ে ফাঁস হয়, আনিকাকে নতুন ফোনের দামে একটি পুরোনো, ‘সার্ভিসিং করা’ ফোন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আনঅফিসিয়াল ফোনের প্রধান ঝুঁকিগুলো:
- কম্পোনেন্ট টেম্পারিং: আনঅফিসিয়াল ফোনগুলো সাধারণত বৈধ চ্যানেলে আসে না। ফলে অনেক বিক্রেতা পুরাতন বা ক্ষতিগ্রস্ত ফোনে নিম্নমানের যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে, যেমন: পুরাতন ব্যাটারিকে সফটওয়্যার দিয়ে ‘বুস্ট’ করা বা অভ্যন্তরীণ ‘সার্ভিসিং’ করে নতুন হিসেবে চালিয়ে দেওয়া। এতে ফোন ব্যবহারের অল্প কিছুদিনের মধ্যেই ব্যাটারির আয়ু কমে যায় বা পারফরম্যান্স খারাপ হতে শুরু করে।
- ওয়ারেন্টি বঞ্চনা: এসব ফোনে প্রস্তুতকারক কোম্পানির কোনো বৈধ ওয়ারেন্টি বা সার্ভিসিং সুবিধা থাকে না। ফোন নষ্ট হলে গ্রাহককে স্থানীয় অনির্ভরযোগ্য মেরামত দোকান বা সার্ভিসিং সেন্টারের দ্বারস্থ হতে হয়।
- নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্নতা: বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) আগামী ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ থেকে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (NEIR) ব্যবস্থা কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছে। এনইআইআর চালু হলে নিবন্ধনবিহীন সকল হ্যান্ডসেট দেশের মোবাইল নেটওয়ার্ক থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। আনঅফিসিয়াল ফোন কিনলে গ্রাহকের ফোনটি ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ার ঝুঁকি নিশ্চিত।
কেন অফিসিয়াল ফোন নিরাপদ?
অফিসিয়াল ফোনগুলো সরকার নির্ধারিত শুল্ক পরিশোধ করে বৈধ চ্যানেলে আসে এবং বিটিআরসি-এর এনইআইআর ডাটাবেজে নিবন্ধিত থাকে। দাম তুলনামূলক বেশি হলেও গ্রাহক পান:
- কোম্পানির নিশ্চিত আসল ব্যাটারি ও যন্ত্রাংশ।
- সম্পূর্ণ ওয়ারেন্টি এবং অনুমোদিত সার্ভিসিং সুবিধা।
- ভবিষ্যতে এনইআইআর দ্বারা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা জনগণকে অবৈধ হ্যান্ডসেটের লোভনীয় দামে আকৃষ্ট না হয়ে, নিজেদের বিনিয়োগ ও সুরক্ষার স্বার্থে শুধুমাত্র অফিসিয়াল এবং বৈধ হ্যান্ডসেট কেনার পরামর্শ দিচ্ছেন।





















