বাজারে কম দামে নতুন ফোন বিক্রির আড়ালে গ্রাহকদের পুরোনো বা ‘সার্ভিসিং করা’ হ্যান্ডসেট ধরিয়ে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এসএমএস গ্যাজেট (SMS Gadget) নামক একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। প্রাপ্ত অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি অসৎ উপায়ে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা করছে।
এসএমএস গ্যাজেটের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তারা এমন হ্যান্ডসেট বিক্রি করছে যা দেখতে নতুনের মতো হলেও, ফোনগুলোর অভ্যন্তরীণ যন্ত্রাংশ হয় পুরোনো, নয়তো আগেই মেরামত বা ‘সার্ভিসিং করা’ ছিল।
রাসেল হোসেন নামে একজন গ্রাহক বলেন, এসএমএস গ্যাজেট থেকে কেনা ফোনটি এক মাস যেতে না যেতেই নেটওয়ার্কের সমস্যা শুরু হয়। সার্ভিস করাতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, তার কেনা ফোনটি ‘নতুন’ নয়, বরং একটি ‘রিফারবিশড’ (সংস্কার করা পুরোনো) ফোন এবং এর কোনো অফিসিয়াল ওয়ারেন্টি বাংলাদেশে নেই।
সম্প্রতি ‘আনঅফিসিয়াল’ বা ‘গ্রে’ মার্কেটের ফোন কিনে প্রতারিত হওয়ার একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। তাদের সবার অভিযোগ এক—বিজ্ঞাপনে ‘অফিসিয়াল প্রাইস’ বা ‘গ্লোবাল ভ্যারিয়েন্ট’ লেখা থাকলেও তাদের ‘নতুন’ বলে ‘রিফারবিশড’ বা ‘ক্লোন’ ফোন গছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ক্রেতাদের প্রতারণা: গ্রাহকরা সম্পূর্ণ নতুন ফোনের দামে এই ফোনগুলো কিনে নিচ্ছেন। কিন্তু ব্যবহারের অল্প সময়ের মধ্যেই ফোনগুলোতে ডিসপ্লে বা ব্যাটারির মতো গুরুত্বপূর্ণ অংশে সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
বিপজ্জনক কৌশল: এটি গ্রে মার্কেটের একটি সাধারণ কৌশল, যেখানে ত্রুটিপূর্ণ বা ব্যবহৃত ফোনকে নতুন কভার ও ব্যাটারি ‘বুস্ট’ করে বাজারে ছাড়া হয়।
এনইআইআর চালুর আগে সতর্কতা:
এই ধরনের আনঅফিসিয়াল ফোনগুলো সাধারণত বিটিআরসি-এর ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (NEIR) সিস্টেমে নিবন্ধিত থাকে না। আগামী ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ থেকে এনইআইআর ব্যবস্থা কার্যকর হলে এই ধরনের অবৈধ হ্যান্ডসেটগুলোর নেটওয়ার্ক সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা গ্রাহকদের যেকোনো ফোন কেনার আগে আইএমইআই (IMEI) নম্বর যাচাই করে এবং শুধুমাত্র অনুমোদিত বিক্রেতাদের কাছ থেকে অফিসিয়াল ওয়ারেন্টিসহ পণ্য কেনার পরামর্শ দিচ্ছেন, যাতে তারা ‘সার্ভিস করা’ বা নকল হ্যান্ডসেটের প্রতারণা থেকে সুরক্ষিত থাকতে পারেন।






















