বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ‘ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা এবং ব্যক্তিগত উপাত্ত ব্যবস্থাপনা আইন’ গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার আইসিটি উপদেষ্টা ফাইজ তাইয়েব আহমেদ তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে এই ঘোষণাকে ‘ডেটা গভর্নেন্স-এর নতুন অধ্যায়ের সূচনা’ বলে অভিহিত করেছেন।
তিনি মন্তব্য করেন, “মানুষের ডাটা যাচ্ছেতাইভাবে ডিল করা, ডেটা বিক্রি করার বদমাইশি আজ থেকে আইনিভাবে শেষ হলো।”
শনিবার (৮ নভেম্বর) এক দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টে ফাইজ তাইয়েব আহমেদ এই আইনকে একটি ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি লেখেন, “আমি আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানাই মাননীয় প্রধান উপদেষ্টাকে। স্যারের নেতৃত্বে ইউরোপীয় ইউনিয়নের জিডিপিআর (জেনারেল ডেটা প্রটেকশন রেগুলেশন) এর এক দশক পরে হলেও আমরা পেরেছি।”
‘আওয়ামী লীগ-সমর্থিত কোম্পানির দুর্বৃত্তপনার কবর রচিত হলো’
আইসিটি উপদেষ্টা এই আইন পাসের পেছনের সংগ্রাম এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে সাবেক সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, “এটা নিয়ে আওয়ামী লীগের মদদ পুষ্ট ও সহযোগী কোম্পানিগুলো, এবং কিছু ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক প্লাটফর্ম গুলো যে এই দুর্বৃত্তপনা এবং যে অনাচার বাংলাদেশে তৈরি করেছে, আজ থেকে তার কবর রচিত হলো।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, ব্যক্তির তথ্য উপাত্ত নিয়ে জবাবদিহি হীন আদান-প্রদান এবং অবৈধ ব্যাবসা আজ থেকে আইনিভাবে রহিত হলো। প্ল্যাটফর্ম সমূহের যৌক্তিক আচরণের অধ্যায়ও শুরু হলো। বাংলাদেশের ডেটা সার্বভৌমত্বকে লঙ্ঘন করে ডিজিটাল ব্যাবসা করতে পারবে না কেউ।”
‘প্রচণ্ড যুদ্ধ করতে হয়েছে’
ফাইজ তাইয়েব আহমেদ জানান, এই আইন প্রণয়নের পথ মসৃণ ছিল না। এটি বন্ধ করতে দেশ-বিদেশ থেকে ‘সংঘবদ্ধ প্রোপাগান্ডা’ চালানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি লেখেন, “এটা গভর্নেন্স আইন থামাতে, ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা আইন বন্ধ করতে… এজন্য আমাকে এবং আমার টিমকে প্রচণ্ড রকম যুদ্ধ করতে হয়েছে, অনেক যন্ত্রণা দেওয়া হয়েছে, এবং অপবাদ দেওয়া হয়েছে, আমরা সেগুলোতে থেমে যাইনি।”
তিনি এই ‘প্রোপাগান্ডা’য় জড়িতদের ‘মুখোশ উন্মোচন’ করারও হুমকি দেন এবং বলেন, “অত্যন্ত শক্তিশালী এক মোরাল নিয়ে আমরা যে কাজ করছি, এটা তাদের আবারও প্রমাণ করে ছেড়েছি।”
আইনটি কী পরিবর্তন আনবে?
আইসিটি উপদেষ্টা তার পোস্টে উল্লেখ করেন, এই আইনের ফলে বাংলাদেশের নাগরিকদের উপাত্ত ব্যবস্থাপনার বিষয়টি আইনিভাবে সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রা পাবে। তিনি বলেন, “প্ল্যাটফর্ম লায়াবিলিটির দিক থেকে, গোপনীয় এবং সংবেদনশীল ডেটা ব্যবস্থাপনার দিক থেকে, সর্বোপরি উপাত্ত সংগ্রহ, সংরক্ষণ, বিনিময় এবং প্রক্রিয়াজাতকরণের দিক থেকে” এই পরিবর্তন আসবে।
তিনি “গভর্নেন্স এর নতুন যুগে সবাইকে স্বাগতম!” জানিয়ে তার বিবৃতি শেষ করেন।





















