অবৈধ বা ‘গ্রে’ মোবাইল হ্যান্ডসেটের রমরমা ব্যবসা বন্ধে সরকার যখন ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (NEIR) ব্যবস্থা চালুর চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক তখনই এই অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি’-এর সভাপতির ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
বিশ্বস্ত সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই সংগঠনের সভাপতি আসলাম নামের ব্যক্তিটির নিজস্ব কোনো মোবাইল ফোন ব্যবসা বা তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দৃশ্যমান সংশ্লিষ্টতা নেই। তাকে কেবল একটি কৌশল হিসেবে ‘ছায়া সভাপতি’ (Shadow President) হিসেবে সামনে আনা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্বচ্ছতার আড়ালে রাজস্ব ফাঁকি ও দুদকের ভয় সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, শুল্ক ফাঁকি দিয়ে হ্যান্ডসেট আমদানি এবং সেই ব্যবসা পরিচালনা বাংলাদেশে সম্পূর্ণ অবৈধ। এই খাতের মূল ব্যবসায়ীরা—যাদের অনেকেই ‘গ্রে-মাফিয়া’ হিসেবে পরিচিত—নিজেদের আড়াল করতেই এই নতুন কৌশল নিয়েছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, অবৈধ মোবাইল ব্যবসার সাথে জড়িত প্রকৃত হোতাদের অনেকেরই অন্যান্য খাতে (যেমন আইটি অ্যাকসেসরিজ, গ্যাজেট শপ বা অন্য ব্যবসায়) দৃশ্যমান ‘বৈধ’ ব্যবসাও রয়েছে। তারা আশঙ্কা করছেন, এই অবৈধ ব্যবসার সংগঠনের সঙ্গে যদি তারা সরাসরি যুক্ত হন বা নেতৃত্বে আসেন, তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) অথবা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাদের সেই বৈধ ব্যবসাগুলোতেও তদন্ত ও তৎপরতা চালাতে পারে।
‘ছায়া সভাপতি’ আসলামের ভূমিকা এই আইনি ও আর্থিক ঝুঁকি এড়াতেই ‘গ্রে’ সিন্ডিকেটটি এমন একজনকে সংগঠনের সভাপতি হিসেবে সামনে নিয়ে এসেছে, যার নামে কোনো মোবাইল ব্যবসা নেই। সরকারের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো যেন সহজে তাদের মূল পরিচয় ও অবৈধ কার্যকলাপের কোনো তথ্য না পায়, সে কারণেই এই ‘ঢাল’ ব্যবহার করা হচ্ছে।
সূত্রমতে, আসলামের কোনো দৃশ্যমান বৈধ মোবাইল ব্যবসা না থাকায়, তাকে নিয়ে তদন্ত শুরু হলেও মূল ব্যবসায়ীরা সুরক্ষিত থাকবেন।
একজন সূত্র জানায়, “মূল ব্যবসায়ীরা প্রথমত তাদের অবৈধ ব্যবসার জন্য কোনো সংগঠনের সামনে আসতে চান না এবং একই সাথে তাদের অন্যান্য বৈধ ব্যবসার সুরক্ষার দিকটি চিন্তা করেই আসলাম নামের একজনকে সভাপতি হিসেবে নিয়ে এসেছেন।”
এনইআইআর (NEIR) বনাম সিন্ডিকেট বিটিআরসি আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে এনইআইআর (NEIR) ব্যবস্থা কার্যকর করার ঘোষণা দেওয়ায় ‘গ্রে’ সিন্ডিকেটের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এই সিস্টেম চালু হলে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা, ‘রিফারবিশড’ ও চোরাই ফোনের রমরমা বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ‘বাংলাদেশ মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি’ নামের এই সংগঠনটি মূলত এনইআইআর (NEIR) প্রতিহত করার জন্যই তৈরি করা হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, সরকার কি এই ‘ছায়া সভাপতি’র আড়ালে থাকা মূল হোতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে পারবে, নাকি এই সিন্ডিকেটের কাছে এনইআইআর (NEIR)-এর মতো একটি ‘মহৎ উদ্যোগ’ আবারও হোঁচট খাবে।






















