চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বিশ্বব্যাপী ট্যাবলেট বাজারে বিক্রির পরিমাণ বেড়েছে। প্রযুক্তি পণ্যের বাজার তথ্য ও পরামর্শক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ওমডিয়ার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ সময়ে বিশ্ববাজারে মোট ৪ কোটি ইউনিট ট্যাবলেট বিক্রি হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ শতাংশ বেশি। এ নিয়ে টানা সপ্তম প্রান্তিকে বিশ্বব্যাপী বিক্রি বাড়ল ট্যাবলেটের।
চীনের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য ও মধ্য ইউরোপে শক্তিশালী ভোক্তা চাহিদা এ বিক্রয় প্রবৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা পালন করেছে। এছাড়া জাপানে সরকারের ‘গিগা ২.০’ শিক্ষা প্রকল্পের কারণে ক্রোম ট্যাবলেটের সরবরাহও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বিশ্বব্যাপী শিক্ষামূলক ব্যবহারে ক্রোমবুক সরবরাহও ৪২ লাখ ইউনিটে পৌঁছেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ শতাংশ বেশি।
ওমডিয়ার গবেষণা ব্যবস্থাপক হিমানি মুক্কা বলেন, ‘ট্যাবলেট বাজার মূলত ভোক্তানির্ভর এবং ২০২৫ সালে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও এটি স্থিতিশীলতা দেখিয়েছে। গত দুই বছরে এ বাজারের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি লক্ষ করা গেছে। নিয়মিত নতুন পণ্যের উন্মোচন, সরকারি ভর্তুকি ও গেমিং ট্যাবলেটের বাড়তি চাহিদা, প্রতিযোগিতামূলক দাম এবং প্রচারণামূলক ক্যাম্পেইন এ প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘পশ্চিমা দেশগুলোয় ছুটির আগে বিক্রি বাড়ার পাশাপাশি এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল ও চীনে ১১.১১ (১১ নভেম্বর উপলক্ষে ছাড়) এবং ছুটির সময় বিক্রি তৃতীয় প্রান্তিকে বাজারের প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।’
তার ভাষ্যমতে, চতুর্থ প্রান্তিকে বিক্রি অনেকটা স্থির থাকবে এবং ২০২৬-এও বাজারে খুব বেশি পরিবর্তন হবে না, কারণ ট্যাবলেট পাল্টানোর চাহিদা ধীরে ধীরে কমতে পারে।
বৃহৎ সরবরাহকারীদের মধ্যে অ্যাপল ১ কোটি ৪৩ লাখ ইউনিট বিক্রি করে স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধির রেকর্ড করেছে। স্যামসাংও ৬৯ লাখ ইউনিট বিক্রির মাধ্যমে আগের অবস্থান ধরে রেখেছে। বাজারে সর্বোচ্চ ২৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধির দেখা পেয়েছে লেনোভো। ইউরোপ, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে বিক্রি বাড়ায় বাজারে কোম্পাটির মোট ট্যাবলেট সরবরাহ পৌঁছেছে ৩৭ লাখ ইউনিটে। হুয়াওয়ে ৩২ লাখ ইউনিট বিক্রি করে ১১ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছে আর শাওমি ২৬ লাখ ইউনিট বিক্রি করে ২ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে শীর্ষ পাঁচে রয়েছে।
ওমডিয়ার গবেষণা ব্যবস্থাপক কিয়েরেন জেসপ বলেন, ‘জাপানের গিগা ২.০ প্রকল্পের পাশাপাশি ক্রোমবুকের শিক্ষাগত ব্যবহার অন্যান্য দেশে, বিশেষ করে মধ্য ও পূর্ব ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকায়ও সম্প্রসারণ হচ্ছে। স্কুলগুলোয় কিছু প্রতিষ্ঠান ক্রোমবুক ব্যবহার করছে, কিছু আবার আইপ্যাডের ওপর নির্ভর করছে। স্থানীয় ও রাজ্য সরকারের অর্থায়ন ক্রোমবুকের ব্যবহার বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।
তিনি উল্লেখ করেন, নিউইয়র্ক সিটিতে ডেল ও টি মোবাইলের সহযোগিতায় প্রায় সাড়ে তিন লাখ ক্রোমবুক সরবরাহ করা হয়েছে, যেগুলোয় ৫জি ইন্টারনেট ব্যবহার করা যায়।
তৃতীয় প্রান্তিকে বৈশ্বিক ক্রোমবুকের বাজার ৩ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। লেনোভো ১৪ লাখ ইউনিট বিক্রি ও ৫৪ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে। এসার দশমিক ৮ লাখ ইউনিট বিক্রি করে ১৮ শতাংশ বাজার হিস্যা অর্জন করেছে। তবে এইচপির বিক্রি ১৫ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ৭ লাখ ইউনিটে নেমেছে। আসুস ও ডেল শীর্ষ পাঁচে রয়েছে। যেখানে আসুস ৫৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধির কারণে উল্লেখযোগ্য অবস্থানে রয়েছে এবং জাপানের গিগা ২.০ প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা থাকা সত্ত্বেও ভোক্তা চাহিদা, শিক্ষামূলক প্রকল্প এবং সরকারি প্রোগ্রামের কারণে ট্যাবলেট ও ক্রোমবুক বাজারের সম্প্রসারণ অব্যাহত রয়েছে।





















