বাংলাদেশের অবৈধ মোবাইল হ্যান্ডসেটের বাজার নিয়ে এক ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। বাজার বিশ্লেষক ও ভুক্তভোগীদের তথ্যমতে, এই ‘গ্রে-মার্কেটের’ প্রায় ৭৫ শতাংশ (তিন-চতুর্থাংশ) ফোনই ‘রিফারবিশড’ বা সংস্কার করা পুরোনো ফোন, যা ‘নতুন’ হিসেবে প্যাকেজিং করে গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে।
‘গ্রে-মাফিয়া’ সিন্ডিকেটগুলো শুধু শুল্ক ফাঁকি দিয়ে দেশের রাজস্বই ক্ষতি করছে না, বরং তারা ‘নতুনের দামে পুরোনো ফোন’ গছিয়ে দিয়ে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত গুরুতর প্রতারণা করে যাচ্ছে।
‘দুবাই ফেরত’ ফোনের রমরমা বাণিজ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই ‘রিফারবিশড’ ফোনের বড় উৎস হলো দুবাই বা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন করপোরেট প্রজেক্টে ব্যবহৃত হওয়া পুরোনো আইফোন বা অন্যান্য ব্র্যান্ডের ফোন। এসব ফোন বাতিল ঘোষণার পর অসাধু ব্যবসায়ীরা তা সস্তায় কিনে চীনে পাঠায়।
সেখানে এসব ফোনে নকল ব্যাটারি, সস্তা ডিসপ্লে ও নতুন কভার লাগিয়ে হুবহু নতুনের মতো প্যাকেজিং করা হয়। এমনকি সফটওয়্যার মডিফাই করে ব্যাটারি হেলথ ১০০% বা ৯৮% করে দেওয়া হয়।
সার্ভিস সেন্টারে ৭০% ফোনই ‘রিফারবিশড’ গ্রাহকরা এই ফোনগুলো কিনে মাসখানেকের মধ্যেই প্রতারিত হচ্ছেন। ফোনগুলোর ব্যাটারি দ্রুত ড্রেইন হচ্ছে, ডিসপ্লে নষ্ট হচ্ছে বা হুট করেই ‘কান্ট্রি লকড’ হয়ে যাচ্ছে।
ঢাকার মোবাইল সার্ভিস সেন্টারগুলো জানিয়েছে, তাদের কাছে আসা ৭০% ফোনই ‘রিফারবিশড’, যার বেশিরভাগই সার্ভিসযোগ্য নয়। একজন টেকনিশিয়ান বলেন, “প্রজেক্ট প্রোফাইল দিয়ে লক করা ফোন এলে আমাদের কিছুই করার থাকে না। গ্রাহকের পুরো টাকাটাই জলে যায়।”
এনইআইআর (NEIR) চালুই কি সমাধান? এই ভয়াবহ প্রতারণা এবং এর নেপথ্যে থাকা বছরে ১০,০০০ কোটি টাকার ডলার পাচার ও ২,০০০ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি বন্ধ করতে সরকার আগামী ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ থেকে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (NEIR) ব্যবস্থা চালুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ এই উদ্যোগকে ‘সময়োপযোগী ও জরুরি পদক্ষেপ’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “এনইআইআর (NEIR) চালুর ফলে নিম্নমানের ও নকল হ্যান্ডসেট বাজার থেকে বাদ যাবে এবং ব্যবহারকারীরা মানসম্পন্ন ডিভাইস ব্যবহার করতে পারবেন।”
বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, এনইআইআর (NEIR) সিস্টেম চালু হলে এই ৭৫% ‘রিফারবিশড’ ফোনের অবৈধ বাণিজ্য সম্পূর্ণ বন্ধ হবে এবং গ্রাহকরা এই প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা পাবেন।






















