অবৈধ বা ‘গ্রে’ মোবাইল হ্যান্ডসেটের রমরমা বাণিজ্যের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান যখন কঠোর হচ্ছে, তখন এই সিন্ডিকেটকে ঘিরে একটি ভয়াবহ ভূ-রাজনৈতিক চক্রান্তের তথ্য ফাঁস হয়েছে। এই চক্রটি শুধু হাজার কোটি টাকা পাচার বা রাজস্ব ফাঁকি দিয়েই ক্ষান্ত নয়, তারা আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে বলেও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারীরা বলছেন, এই সিন্ডিকেটের অন্যতম প্রধান টার্গেট হলো বাংলাদেশের বৃহত্তম বিদেশি বিনিয়োগকারী দেশ চীনের সাথে সরকারের সম্পর্ক নষ্ট করা। অনেকেই অভিযোগ করছেন, চক্রটি ‘ভারত থেকে আওয়ামী লীগ সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নে’ এই চীন-বিরোধী তৎপরতা চালাচ্ছে।
‘ছায়া’ সভাপতির আড়ালে মূল হোতা পিয়াস এই ভূ-রাজনৈতিক খেলার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ‘গ্রে-মাফিয়া’ সিন্ডিকেটের মূল হোতা এবং ‘সুমাসটেক লিমিটেড’-এর স্বত্ত্বাধিকারী আবু সাঈদ পিয়াস। অভিযোগ, পিয়াসই ‘বাংলাদেশ মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি’ নামক একটি ‘ভুঁইফোড়’ (অখ্যাত) সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পর্দার আড়াল থেকে কলকাঠি নাড়ছেন।
এর আগে, এই সংগঠনটি আসলাম নামের একজন ‘অসংশ্লিষ্ট’ ব্যক্তিকে সভাপতি হিসেবে সামনে আনায় তাকে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। সূত্রমতে, আসলাম মূলত একটি ‘ঢাল’ বা ‘ছায়া সভাপতি’। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর নজর এড়াতেই এই ‘ছায়া’ নেতৃত্বকে ব্যবহার করা হচ্ছে।
সাবেক সরকারের ‘সুবিধাভোগী’ অনুসন্ধানে জানা গেছে, আবু সাঈদ পিয়াস সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের একজন প্রধান ‘সুবিধাভোগী’ ছিলেন। এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধেই সাবেক সরকারের শীর্ষ মহল—সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সালমান এফ রহমানকে—‘মাসিক কমিশন’ দিয়ে হাজার কোটি টাকার অবৈধ বাণিজ্য সুরক্ষিত রাখার অভিযোগ রয়েছে।
মূলত এই চক্রের চাপেই ২০২১ সালে এনইআইআর (NEIR) সিস্টেম চালু করেও তা স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছিল সরকার।
এনইআইআর (NEIR) ঠেকাতেই ‘ভুঁইফোড়’ সংগঠন বিশ্লেষকরা বলছেন, আবু সাঈদ পিয়াসের মতো ‘গ্রে’ ব্যবসায়ীদের মূল বাণিজ্যই হলো শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা ‘আনঅফিসিয়াল’ ফোন, ‘দুবাই ফেরত’ রিফারবিশড আইফোন (যা বাজারের ৭৫% বলে অভিযোগ) এবং ‘অ্যাঙ্কার’ (Anker)-এর মতো ব্র্যান্ডের অননুমোদিত পণ্য বিক্রি করা।
বর্তমান সরকার আগামী ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ থেকে এনইআইআর (NEIR) ব্যবস্থা চালুর চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়ায়, পিয়াসের এই হাজার কোটি টাকার ব্যবসা সরাসরি বন্ধের মুখে পড়েছে।
অভিযোগ, এই এনইআইআর (NEIR) সিস্টেমকে প্রতিহত করার জন্যই পিয়াস পর্দার আড়ালে থেকে, ‘আসলাম’-কে সামনে রেখে, ‘বাংলাদেশ মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি’ নামক এই ‘ভুঁইফোড়’ সংগঠনটি তৈরি করেছেন। এই সংগঠনের নামে তারা এনইআইআর (NEIR)-এর বিরুদ্ধে ‘গুজব’ ছড়ানো এবং এই ‘মহৎ উদ্যোগ’-কে বন্ধ করার জন্য বিভিন্ন মহলে তদবির করে যাচ্ছেন।
মূলত, হাজার কোটি টাকার ডলার পাচার, রাজস্ব ফাঁকি এবং গ্রাহক প্রতারণার এই বাণিজ্যকে রক্ষা করতেই সিন্ডিকেটটি এখন ভূ-রাজনৈতিক ‘খেলা’য় নেমেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।






















