গুগল ক্রোম, ফায়ারফক্স ও মাইক্রোসফট এজের মতো বড় কিংবা সর্বাধিক ব্যবহৃত ওয়েব ব্রাউজারগুলো ব্যবহারকারীদের পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ ও অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সিংক করার সুবিধা দেয়। এটি খুবই সুবিধাজনক। কারণ এর মধ্য দিয়ে পাসওয়ার্ড ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সিংক হয় এবং বিভিন্ন ডিভাইসে সহজে ব্যবহার করা যায়। অনেকেই হয়তো এরই মধ্যে এ সুবিধা ব্যবহার করছেন। তবে এক্ষেত্রে কিছু নিরাপত্তাঝুঁকি রয়ে যায়। ফলে অনেক ব্যবহারকারী পেইড পাসওয়ার্ড ম্যানেজারে স্থানান্তরিত হতে বাধ্য হন। তাই ওয়েব ব্রাউজারে পাসওয়ার্ড সংরক্ষণের ক্ষেত্রে কিছু সাধারণ সতর্কতা অবলম্বন করা গেলে নিরাপদ থাকা যায়।
সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রাউজারে পাসওয়ার্ড সংরক্ষণের ঝুঁকি মূলত দুই ধরনের। প্রথমত, নিজস্ব ডিভাইসে পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ। অর্থাৎ ডিভাইসে কীভাবে পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ করা হচ্ছে এবং কে এটি দেখতে পারছে। উদাহরণস্বরূপ, উইন্ডোজে ক্রোম ব্যবহার করলে যে কেউ সহজে পাসওয়ার্ড হ্যাক করতে পারে। অনেক স্মার্টফোনে নিরাপত্তার বাড়তি স্তর হিসেবে অতিরিক্ত পাসকোড বা বায়োমেট্রিক পদ্ধতি থাকে, তবে ডেস্কটপে প্রায়শই এমন কোনো বাধা থাকে না।
দ্বিতীয়ত, অ্যাকাউন্টের তথ্য চুরি হওয়ার সম্ভাবনা। অ্যাপল, গুগল বা মাইক্রোসফটের লগইন তথ্য চুরি করা কঠিন হলেও সাইবার অপরাধীরা নিয়মিত চেষ্টা চালায়। অনেক ব্যবহারকারী একাধিক সাইটে একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেন। তাই কোনো তৃতীয় পক্ষের ডাটা লিংকের ফলে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে প্রবেশের ঝুঁকি থাকে। উদাহরণস্বরূপ, ক্রোমে উইন্ডোজে লগইন করা থাকলে পাসওয়ার্ড সহজেই কারো হাতে পড়তে পারে। যদিও স্মার্টফোনে বায়োমেট্রিক বা পিন ব্যবহার করলে কিছুটা নিরাপদ থাকা যায়।
পাসওয়ার্ড সংরক্ষণের নিরাপত্তা বাড়াতে কিছু সহজ পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলেন বিশ্লেষকরা। বিভিন্ন ডিভাইস এবং ব্রাউজার অ্যাকাউন্টে আলাদা ও জটিল পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ। পাসওয়ার্ড মনে রাখতে ‘পাস-সেনটেন্স’ পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে। অর্থাৎ একটি অর্থপূর্ণ বাক্য বা বাক্যের অংশ নিয়ে এর কিছু অক্ষর/চিহ্ন বদলে একটি শক্তপোক্ত কিন্তু মনে রাখা সহজ পাসওয়ার্ড বানানো। যেমন 2005icecre@misdelicious! এছাড়া যেখানে সম্ভব, বায়োমেট্রিক লগইন এবং দ্রুত অটো-লক ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয়। এতে নিরাপত্তা বৃদ্ধি পায়। দুই স্তরের যাচাইকরণ (টুএফএ) সক্রিয় করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি একাধিক ধাপে অ্যাকাউন্টকে সুরক্ষিত রাখে এবং পাসওয়ার্ড চুরির চেষ্টা হলে তা ব্যবহারকারীর জন্য অকেজো হয়ে যায়।
তৃতীয় পক্ষের পাসওয়ার্ড ম্যানেজার, যেমন বিটওয়ার্ডেন, ওয়ানপাসওয়ার্ড, লাস্টপাস আরো বেশি নিরাপত্তা দিতে পারে। এদের মাস্টার পাসওয়ার্ড বা ডিভাইস লগইনের থেকে আলাদা এবং ভল্টগুলোর (যেখানে পাসওয়ার্ড রাখা হয়) এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপ্টেড থাকে। তবে এতে মাসিক ফি পরিশোধ করতে হয়। যা সব ব্যবহারকারীর জন্য সুবিধাজনক নাও হতে পারে।
কিন্তু নিরাপত্তা নিয়ে বেশি চিন্তিত হলে একটি ডেডিকেটেড পাসওয়ার্ড ম্যানেজারে বিনিয়োগ করা যুক্তিসংগত বলেই মনে করা হয়। আর যদি খরচ সীমিত হয়, ব্রাউজারভিত্তিক পাসওয়ার্ড সংরক্ষণের কিছু ভালো অভ্যাস মেনে চললেই যথেষ্ট নিরাপদ থাকা যায়।






















