স্মার্টফোনের নিরাপত্তা, বৈধতা যাচাই এবং চুরি রোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়সংকেত হলো আইএমইআই বা ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি নম্বর। প্রতিটি মোবাইল ফোনের জন্য দেওয়া এই স্বতন্ত্র নম্বরটি মূলত ডিভাইস শনাক্তকরণে ব্যবহৃত হয়। তাই ফোন চুরি হলে থানায় জিডি করার সময়, কিংবা কোনো ফোন অফিসিয়াল নাকি আনঅফিশিয়াল—তা যাচাই করতেও আইএমইআই নম্বর অত্যন্ত জরুরি ভূমিকা পালন করে।
আইএমইআই নম্বর কেন গুরুত্বপূর্ণ?
ডিভাইস শনাক্ত করে: প্রতিটি ফোনের জন্য একটি ইউনিক নম্বর থাকে, যা ডিভাইসটিকে অন্য সব ফোন থেকে আলাদা করে।
চুরি হলে উদ্ধার কাজে সহায়ক: ফোন চুরি হওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ নম্বরের মাধ্যমে ডিভাইসের অবস্থান ও নেটওয়ার্ক কার্যক্রম ট্র্যাক করতে পারে।
অফিশিয়াল-আনঅফিশিয়াল চেক: বাজারে কেনা ফোন বৈধভাবে আমদানি করা কি না, সেটি যাচাই করতেও আইএমইআই অত্যন্ত কার্যকর।
নিবন্ধন যাচাই: নেটওয়ার্কে ফোনটি নিবন্ধিত কি না, সেটিও এই নম্বর দিয়েই নিশ্চিত করা যায়।
আইএমইআই নম্বর বের করার সবচেয়ে দ্রুত ও সর্বজনীন পদ্ধতি হলো ডায়লার থেকে কোড ব্যবহার করা। এ পদ্ধতিটি অ্যান্ড্রয়েড, আইফোন, উইন্ডোজ ফোন থেকে শুরু করে সাধারণ ফিচার ফোনেও একইভাবে কাজ করে।
১. ডায়লার কোড ব্যবহার করে
ফোনের ডায়লার (Dial Pad) খুলুন
টাইপ করুন *#০৬#
কল বাটনে চাপুন
সঙ্গে সঙ্গে স্ক্রিনে ফোনের IMEI নম্বর দেখা যাবে
এ পদ্ধতি সব ধরনের মোবাইল ফোনে সমানভাবে কার্যকর।
আরও যেসব উপায়ে আইএমইআই নম্বর পাওয়া যায়
২. ফোনের সেটিংস থেকে
অ্যানড্রয়েড:
Settings → About Phone → Status → IMEI Information
আইফোন (iOS):
Settings → General → About → নিচে স্ক্রল করে IMEI
৩. ফোনের বক্সে
প্রায় সব ব্র্যান্ডের ফোনের বক্সে বারকোড স্টিকারের পাশে আইএমইআই নম্বর লেখা থাকে। বক্স সংরক্ষণ করলে নম্বর হারানোর ঝুঁকি কমে।
৪. সিম ট্রে বা ব্যাককভার
অনেক ফোনে (বিশেষত আইফোন বা নির্দিষ্ট অ্যান্ড্রয়েড মডেল) সিম ট্রে বা ফোনের ব্যাক প্যানেলে IMEI নম্বর খোদাই করা থাকে।
IMEI নম্বর কোথাও নিরাপদে লিখে রাখুন
ফোন চুরি হওয়া বা নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি মাথায় রেখে আইএমইআই নম্বর আলাদা করে নোট করে রাখা ভালো। এতে প্রয়োজনে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সুবিধা হয়।






















