অবৈধ মোবাইল ফোনের বাজার বন্ধে সরকারের ‘মহৎ উদ্যোগ’-কে প্রতিহত করতে না পেরে, এবার সরাসরি রাষ্ট্রকে ‘হুঁশিয়ারি’ দিয়েছে ‘গ্রে-মাফিয়া’ সিন্ডিকেট। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এই চক্রটি আগামী ১৬ ডিসেম্বরের পর সারা বাংলাদেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি এবং অরাজকতার ‘ঘোষণা’ দিয়েছে।
দেশের প্রযুক্তি খাতের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো সিন্ডিকেটের পক্ষ থেকে এমন সরাসরি রাষ্ট্রবিরোধী হুমকি এলো।
গুরুতর অভিযোগ উঠেছে যে, অন্তর্বর্তী সরকারকে বিতর্কিত করতে এবং আসন্ন নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে এই অবৈধ মোবাইল ফোন মাফিয়াচক্রকে সক্রিয়ভাবে ইন্ধন ও সহযোগিতা দিচ্ছে সাবেক ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ পন্থীরা।
অবৈধ মোবাইল বিজনেস কমিউনিটির সভাপতি ও গ্যাজেট অরবিটের স্বত্ত্বাধিকারী মোহাম্মদ আসলাম এর নেতৃত্বে সরকার এবং বিটিআরসিকে নিয়ে নানা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। দেশের জনগণ ও প্রবাসীদের কে ভুল মেসেজ দিয়ে উদ্বিগ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
কেন এই বেপরোয়া ‘হুঁশিয়ারি’?
সরকার আগামী ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ থেকে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (NEIR) ব্যবস্থা চালুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিস্টেম চালু হলে ‘গ্রে-মাফিয়া’ সিন্ডিকেটের অবৈধ আয়ের উৎস সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে।
এই সিন্ডিকেটের মূল বাণিজ্য হলো: ১. ২০,০০০ কোটি টাকার ‘রিফারবিশড’ বাজার: দেশের অবৈধ বাজারের ৭৫% (প্রায় ২০,০০০ কোটি টাকা) হলো ‘রিফারবিশড’ বা ‘দুবাই ফেরত’ পুরোনো ফোন। এই ফোনগুলোকেই ‘নতুন’ বলে গ্রাহকদের গছিয়ে দেওয়া হয়।
২. ১০,০০০ কোটি টাকার ডলার পাচার: ‘গ্রে-মার্কেটের’ আড়ালে বছরে ১০,০০০ কোটি টাকার বেশি ডলার পাচার (মানিলন্ডারিং) হয়।
৩. ২,০০০ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি: শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বছরে সরকারের ২,০০০ কোটি টাকা ক্ষতি করে এই চক্র।
এনইআইআর (NEIR) চালু হলে এই সম্পূর্ণ অবৈধ সাম্রাজ্য এক দিনেই বন্ধ হয়ে যাবে। এই আর্থিক পতন ঠেকাতেই সিন্ডিকেটটি এখন ‘অরাজকতার’ পথ বেছে নিয়েছে।
রাজনৈতিক ইন্ধন ও মানিলন্ডারিং
‘গ্রে-মাফিয়া’র এই বেপরোয়া ‘হুঁশিয়ারি’র পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধনের অভিযোগটিই সবচেয়ে ভয়াবহ।
-
মানিলন্ডারিংয়ের সহযোগী: গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, সোহেল এই দুই শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার ‘অবৈধ টাকা’ মানিলন্ডারিংয়ের মাধ্যমে দুবাই এবং সিঙ্গাপুরে পাচারের অন্যতম প্রধান সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন।
-
বর্তমান চক্রান্ত: অভিযোগ, সাবেক সরকারের সেই ‘সুবিধাভোগী’ চক্রটিই এখন রাজনৈতিক ইন্ধনে মাঠে নেমেছে। তারা এনইআইআর (NEIR) বন্ধ করার জন্য ‘আওয়ামী লীগ পন্থী’দের সহযোগিতায় দেশকে অস্থিতিশীল করার হুমকি দিচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিষয়টি এখন আর শুধু রাজস্ব ফাঁকি বা গ্রাহক প্রতারণার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ২০ হাজার কোটি টাকার এই ‘অন্ধকার’ বাজার রক্ষা করতে ‘গ্রে-মাফিয়া’ চক্রটি এখন রাজনৈতিক ইন্ধনে দেশের আইনশৃঙ্খলার জন্য সরাসরি হুমকিতে পরিণত হয়েছে।






















