‘সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫’-এর আওতায় ‘হেট স্পিচ’ (Hate Speech) বা ঘৃণা উদ্রেককারী বক্তব্যকে ‘ফ্রিডম অফ স্পিচ’ বা বাকস্বাধীনতা হিসেবেই সম্মান করা হয়েছে এবং একে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়নি। তবে, সেই ‘হেট স্পিচ’ যদি সহিংসতা তৈরি করে (Instigates Violence) বা সহিংসতার আহ্বান জানায় (Calls for Violence), তবে তা গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামীর বক্তব্য প্রচারের ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য হবে। কোনো দণ্ডপ্রাপ্ত আসামীর বক্তব্য প্রচার করা অপরাধ নয়, কিন্তু সেই বক্তব্যে যদি সহিংসতা তৈরির আহ্বান বা উস্কানি থাকে, তবে তা প্রচার করাও সাইবার অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
অধ্যাদেশটির এই ব্যাখ্যার প্রেক্ষাপটেই, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্যকে ‘দেশব্যাপী সহিংসতা তৈরির উম্মুক্ত আহ্বান’ (Open call for nation-wide violence) হিসেবে বিবেচনা করে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি (NCSA) একটি সচেতনতামূলক প্রজ্ঞাপন ও সতর্কতা জারি করেছে।
মানবাধিকার কর্মীদের ঐকমত্য সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ‘সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫’ প্রণয়নের সময় মানবাধিকার কর্মীদের সঙ্গে সরকারের যে এনগেজমেন্ট (engagement) হয়েছিল, সেখানে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকগুলোতে মানবাধিকার কর্মীরা সর্বসম্মতভাবে এই মত সমর্থন করেছিলেন যে, ‘হেট স্পিচ’ বা ঘৃণা উদ্রেককারী বক্তব্যকে ঢালাওভাবে অপরাধ বলা ঠিক নয়। তবে, ‘হেট স্পিচ দ্যাট ইনষ্টিগেটস ভায়োলেন্স’ (Hate speech that instigates violence) এবং ‘হেট স্পিচ দ্যাট কলস ফর ভায়োলেন্স’ (Hate speech that calls for violence)—এই দুটি সুনির্দিষ্ট বিষয়কে অবশ্যই অপরাধের আওতায় আনতে হবে। তাদের সেই মতামতের ভিত্তিতেই অধ্যাদেশে এই ধারাটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সতর্কতার প্রেক্ষাপট কর্তৃপক্ষ মনে করছে, সম্প্রতি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামী শেখ হাসিনার বিভিন্ন বক্তব্য ডিজিটাল মিডিয়া ও সাইবার স্পেসে প্রচারিত হচ্ছে, যার অধিকাংশ বক্তব্যই ‘ওপেন কল ফর ভায়োলেন্স’ বা সহিংসতা তৈরির প্রকাশ্য আহ্বান।
যেহেতু এই ধরনের ‘সহিংসতা তৈরীর আহ্বান সংবলিত বক্তব্য’ ডিজিটাল মিডিয়া বা সাইবার স্পেসে প্রচার করাও অধ্যাদেশ অনুযায়ী অপরাধের পর্যায়ে পড়ে, সেহেতু জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি (NCSA) এই বিষয়ে সকল ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও ব্যবহারকারীদের সতর্ক করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।





















