আগামী ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ থেকে সরকারের ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (NEIR) ব্যবস্থা চালুর ‘মহৎ উদ্যোগ’কে কেন্দ্র করে অবৈধ মোবাইল হ্যান্ডসেট ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
তবে এই ‘উদ্বেগ’ এখন আর সাধারণ ব্যবসায়িক লোকসানের দুশ্চিন্তায় সীমাবদ্ধ নেই। এটি রূপ নিয়েছে এক বেপরোয়া ‘গ্রে-মাফিয়া’ সিন্ডিকেটের রাষ্ট্রবিরোধী ‘হুঁশিয়ারি’-তে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই ‘উদ্বেগ’-এর নেপথ্যে রয়েছে বছরে ২০ হাজার কোটি টাকার ‘রিফারবিশড’ (Refurbished) ফোনের প্রতারণামূলক বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাওয়ার আতঙ্ক। অভিযোগ উঠেছে, সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের ‘সুবিধাভোগী’ এই চক্রটিই এখন আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশকে অস্থিতিশীল করতে এবং এনইআইআর (NEIR) সিস্টেমকে প্রতিহত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
‘উদ্বেগ’-এর নেপথ্যে ২০ হাজার কোটির ‘রিফারবিশড’ সাম্রাজ্য
এই ‘গ্রে-মাফিয়া’ সিন্ডিকেটের ‘উদ্বেগ’-এর মূল কারণ তাদের আয়ের প্রধান উৎস বন্ধ হয়ে যাওয়া।
১. ‘রিফারবিশড’ প্রতারণা: দেশের অবৈধ বাজারের ৭৫ শতাংশই (যার বাজারমূল্য প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা) হলো ‘রিফারবিশড’ বা ‘দুবাই ফেরত’ পুরোনো ফোন। এই বাজারের সিংহভাগই ‘রিফারবিশড আইফোন’। এই ফোনগুলোকেই ‘নতুন’ বলে প্যাকেজিং করে গ্রাহকদের গছিয়ে দেওয়া হয়।
২. ডলার পাচার: এই বাণিজ্যের আড়ালে বছরে ১০,০০০ কোটি টাকার বেশি ডলার পাচার (মানিলন্ডারিং) হয়।
৩. রাজস্ব ফাঁকি: ‘গ্রে-মার্কেটের’ কারণে সরকার বছরে ২,০০০ কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে।
এনইআইআর (NEIR) সিস্টেম চালু হলে এক সেকেন্ডেই এই সম্পূর্ণ অবৈধ সাম্রাজ্য অচল হয়ে পড়বে। এই আর্থিক পতন ঠেকাতেই সিন্ডিকেটটি এখন ‘উদ্বেগ’-এর বদলে ‘আক্রমণাত্মক’ পথ বেছে নিয়েছে।
‘উদ্বেগগ্রস্ত’ এই সিন্ডিকেট এখন এনইআইআর (NEIR) ঠেকাতে সরাসরি মাঠ গরম করার হুমকি দিচ্ছে।
-
‘ভুঁইফোড়’ সংগঠন: আসলাম নিজেই ‘বাংলাদেশ মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি’ নামে একটি ‘ভুঁইফোড়’ সংগঠনের সভাপতি পদে বসেছেন।
-
‘অস্থিতিশীল’ করার হুমকি: অভিযোগ, এই সিন্ডিকেটই আগামী ১৬ ডিসেম্বরের পর দেশ অস্থিতিশীল করার এবং ‘অরাজকতা’ সৃষ্টির ‘হুঁশিয়ারি’ দিয়েছে।
-
রাজনৈতিক ইন্ধন: আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে, সাবেক আওয়ামী লীগ পন্থীরাই এই ‘গ্রে-মাফিয়া’ চক্রকে ইন্ধন দিচ্ছে এবং সরকারকে বিতর্কিত করতে এই ‘উদ্বেগ’-কে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এনইআইআর (NEIR) বাস্তবায়নে ‘অবৈধ ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ’-এর বিষয়টি এখন আর ব্যবসায়িক নয়, এটি সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার সাথে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েছে।






















