রোগীর হাড়ভাঙা বা হাড়ের স্থানচ্যুতি দ্রুত শনাক্তে এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার শুরু করছে যুক্তরাজ্যের কয়েকটি হাসপাতাল। আগামী মাস থেকে নর্দার্ন লিঙ্কনশায়ার ও গুলে অবস্থিত হাসপাতালগুলোতে দুই বছর মেয়াদে পরীক্ষামূলকভাবে এই প্রযুক্তি চালু হবে। যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবার (এনএইচএস) উদ্যোগে জরুরি বিভাগে চালু হওয়া এ প্রকল্প রোগীর চিকিৎসা কার্যক্রমকে আরো দ্রুত, নির্ভুল ও সহজবোধ্য করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জরুরি চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ আব্দুল খান বলেন, ‘ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে জরুরি বিভাগের চাপ কমেছে এবং রোগীর সেবা বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরাও আশা করছি, এখানে এআই অনুরূপ ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, এআই সফটওয়্যারটি এক্স-রে ছবির একটি অ্যানোটেটেড (টিকচিহ্নযুক্ত) সংস্করণ তৈরি করবে, যেখানে সম্ভাব্য ভাঙন বা সন্দেহজনক স্থানগুলো আলাদা করে দেখানো থাকবে। এর ফলে চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত আরো দ্রুত ও নিশ্চিতভাবে নেয়া সম্ভব হবে। তবু প্রতিটি এক্স-রে চিকিৎসকরাই পরীক্ষা করবেন এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
অ্যাডভান্সড প্র্যাকটিশনার রেডিওগ্রাফার জ্যাক বেটস বলেন, ‘প্রতিটি এক্স-রের সঙ্গে রোগীর রেকর্ডে এআই–চিহ্নিত একটি ছবি যুক্ত হবে। কোনো সমস্যা থাকলে তা চিকিৎসকের চোখে সঙ্গে সঙ্গে ধরা পড়বে।’
এই পাইলট প্রকল্পটি আপাতত শুধু জরুরি বিভাগেই সীমিত থাকবে। দুই বছরের কম বয়সী শিশু, ইনডোর ও আউটডোর রোগী এবং বুক, মেরুদণ্ড, খুলি, মুখমণ্ডল বা নরম টিস্যুর ইমেজিং এই প্রকল্পের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যস্ত হাসপাতালে এআই এমন অনেক সূক্ষ্ম সমস্যাও ধরতে সক্ষম, যা কখনো কখনো মানুষের চোখ এড়িয়ে যায়। তবে চিকিৎসকের ভূমিকাই থাকবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—রোগীর নিরাপত্তায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সবসময় চিকিৎসকরাই নেবেন।




















