দেশের প্রযুক্তি বাজারে বর্তমানে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্র্যান্ড ‘অ্যাঙ্কার’ (Anker)-এর নকল ও রিফার্বিশড পণ্যের ছড়াছড়ি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। হুবহু আসলের মতো দেখতে এসব ‘মাস্টার কপি’ পণ্য কিনে প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন সাধারণ গ্রাহকরা। বাহ্যিক চাকচিক্য আর প্যাকেজিং দেখে আসল-নকলের পার্থক্য করা এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আসলের ভিড়ে নকলের সমাহার রাজধানীর গুলিস্তান, মোতালেব প্লাজা, ইস্টার্ন প্লাজাসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স মার্কেট এবং একাধিক অনলাইন শপ ঘুরে দেখা যায়, অ্যাঙ্কারের চার্জার, ক্যাবল, পাওয়ার ব্যাংক এবং অডিও ডিভাইস দেদারসে বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে একটি বড় অংশই নকল বা রিফার্বিশড (মেরামতকৃত)। অসাধু ব্যবসায়ীরা ‘অরিজিনাল প্রোডাক্ট’ বা ‘দুবাই ভেরিয়েন্ট’ বলে এসব পণ্য গ্রাহকের হাতে তুলে দিচ্ছেন।
ভুক্তভোগী গ্রাহকদের মতে, পণ্য কেনার সময় বোঝার কোনো উপায় থাকে না যে সেটি নকল। প্যাকেজিং, লোগো এবং ফিনিশিং এতটাই নিখুঁত করা হয় যে, অভিজ্ঞদের পক্ষেও তা ধরা কঠিন।
কিছুদিন পরই মিলছে ত্রুটি প্রতারণার বিষয়টি গ্রাহক টের পান পণ্যটি কিছুদিন ব্যবহারের পর। সদ্য ভুক্তভোগী এক ক্রেতা জানান, “অরিজিনাল বলে একটি ফাস্ট চার্জার কিনেছিলাম। কিন্তু এক সপ্তাহ না যেতেই দেখি চার্জ হতে প্রচুর সময় নিচ্ছে এবং ফোন অতিরিক্ত গরম হয়ে যাচ্ছে। পরে সার্ভিস সেন্টারে দেখিয়ে জানতে পারি, চার্জারটি আসলে নকল।”
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নকল চার্জার ও পাওয়ার ব্যাংকে কোনো সেফটি মেকানিজম থাকে না। ফলে এগুলো ব্যবহারে শুধু আর্থিক ক্ষতিই হয় না, বরং দামী স্মার্টফোনের মাদারবোর্ড ও ব্যাটারি হেলথ দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার মারাত্মক ঝুঁকি থাকে। এমনকি নিম্নমানের ব্যাটারি ব্যবহারের ফলে বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটতে পারে।
রক্ষা পাওয়ার উপায় কী? এই প্রতারণা থেকে বাঁচতে প্রযুক্তি পণ্য আমদানিকারক ও বিশেষজ্ঞরা গ্রাহকদের সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। আসল পণ্য চেনার ক্ষেত্রে তাঁরা কিছু সুনির্দিষ্ট বিষয় লক্ষ রাখার কথা বলছেন:
১. ভেরিফিকেশন কোড: অ্যাঙ্কারের প্রতিটি আসল পণ্যের বক্সে একটি সিকিউরিটি কোড থাকে। স্ক্র্যাচ করে সেই কোডটি অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে (anker.com/verify) যাচাই করে নিতে হবে।
২. ডিস্ট্রিবিউটর স্টিকার: বাংলাদেশে অ্যাঙ্কারের অনুমোদিত ডিস্ট্রিবিউটরের (যেমন- Contrivance International) হলোগ্রাম স্টিকার দেখে পণ্য কেনা নিরাপদ।
৩. মূল্য যাচাই: বাজারদরের চেয়ে অবিশ্বাস্য কম দামে পণ্য পেলে সেটি নকল হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ভুক্তভোগীরা বাজারে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন, যাতে নকল পণ্যের এই দৌরাত্ম্য কমে এবং সাধারণ মানুষ প্রতারণার হাত থেকে রেহাই পায়।





















