আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) চালুর ঘোষণায় অনড় অবস্থানে রয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। আর তাতেই ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে দেশের অবৈধ মোবাইল ফোন বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণকারী ‘গ্রে-মাফিয়া’ সিন্ডিকেট।
সরকারের এই শীর্ষ উপদেষ্টাকে লক্ষ্য করে এখন প্রকাশ্যে ও গোপনে ‘হুঁশিয়ারি’ দিচ্ছে অবৈধ ব্যবসায়ীরা। অভিযোগ উঠেছে, এনইআইআর বাস্তবায়ন থেকে সরে না আসলে ১৬ ডিসেম্বরের পর সারা দেশে মোবাইল বাজার অস্থিতিশীল করা এবং কৃত্রিম সংকট তৈরির হুমকি দিয়েছে এই চক্র।
কেন ফয়েজ তৈয়্যবকে টার্গেট করছে সিন্ডিকেট? দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব দেশের প্রযুক্তি খাতের সংস্কারে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। বিশেষ করে মোবাইল খাতের শৃঙ্খলার স্বার্থে তিনি এনইআইআর বাস্তবায়নে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছেন।
তার এই কঠোর অবস্থানের কারণে সরাসরি হুমকির মুখে পড়েছে সিন্ডিকেটের:
১. ২০,০০০ কোটি টাকার অবৈধ বাজার: যার ৭৫ শতাংশই ‘রিফারবিশড’ বা পুরোনো ফোন।
২. মানিলন্ডারিং রুট: অবৈধ ফোনের আড়ালে বছরে ১০ হাজার কোটি টাকার ডলার পাচার।
৩. রাজস্ব ফাঁকি: বছরে সরকারের ২ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি।
সিন্ডিকেট বুঝতে পেরেছে, ফয়েজ তৈয়্যব দায়িত্বে থাকলে এনইআইআর আটকানো সম্ভব নয়। তাই তারা এখন তাকে ব্যক্তিগতভাবে টার্গেট করে চাপ সৃষ্টির কৌশল নিয়েছে।
হুঁশিয়ারির ধরণ ও রাজনৈতিক ইন্ধন অনুসন্ধানে জানা গেছে, ‘বাংলাদেশ মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি’র নাম ব্যবহার করে সিন্ডিকেটের হোতারা বিভিন্ন মাধ্যমে সরকারকে বার্তা পাঠাচ্ছে। তাদের দাবি, এনইআইআর চালু হলে তারা ধর্মঘটসহ কঠোর কর্মসূচিতে যাবে।
তবে গোয়েন্দা সূত্র বলছে, এই ‘ব্যবসায়িক দাবি’র আড়ালে মূলত কাজ করছে সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের একটি সুবিধাভোগী চক্র। ‘সুমাসটেক’-এর স্বত্ত্বাধিকারী আবু সাঈদ পিয়াস, যিনি সাবেক প্রতিমন্ত্রী পলক ও উপদেষ্টা সালমানের ঘনিষ্ঠ ছিলেন, তিনিই এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কলকাঠি নাড়ছেন বলে অভিযোগ। তাদের লক্ষ্য—সরকারকে চাপে ফেলে এনইআইআর প্রক্রিয়া বিলম্বিত করা এবং নিজেদের অবৈধ সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখা।
সরকারের কঠোর বার্তা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব কোনো হুমকির কাছে নতি স্বীকার করবেন না। বরং অবৈধ ফোনের মাধ্যমে যারা দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করছে এবং গ্রাহকদের সাথে প্রতারণা করছে, তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, একটি অবৈধ সিন্ডিকেট যখন খোদ সরকারের উপদেষ্টাকে ‘হুঁশিয়ারি’ দেওয়ার দুঃসাহস দেখায়, তখন বুঝতে হবে তাদের শিকড় কতটা গভীরে। ১৬ ডিসেম্বর এনইআইআর বাস্তবায়ন এখন শুধু প্রযুক্তির বিষয় নয়, এটি সরকারের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।






















