অবৈধ মোবাইল ফোন বন্ধে সরকারের এনইআইআর (NEIR) উদ্যোগের বিরুদ্ধে এবার সরাসরি রাষ্ট্রকে হুমকি দিয়েছে ‘গ্রে-মাফিয়া’ সিন্ডিকেট। ‘বাংলাদেশ অবৈধ মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি’র ব্যানারে আয়োজিত এক সমাবেশে সংগঠনটির সহ-সভাপতি বর্তমান সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, “ছোট্ট একটা ইস্যুতে কিন্তু ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হয়েছে।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি কোনো সাধারণ ব্যবসায়িক দাবি নয়, বরং এটি রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার একটি স্পষ্ট হুমকি এবং উস্কানি। ২০ হাজার কোটি টাকার অবৈধ সাম্রাজ্য বাঁচাতে এই চক্রটি এখন ‘সরকার পতন’-এর মতো স্পর্শকাতর বিষয়কে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।
হুমকির নেপথ্যে কী? আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে এনইআইআর চালু হলে অবৈধ, চোরাই ও রিফারবিশড ফোন অচল হয়ে যাবে। এতে ‘সুমাসটেক’-এর পিয়াস, ‘ড্যাজল’ বা ‘অ্যাপল গ্যাজেট’-এর মতো সিন্ডিকেটের হাজার কোটি টাকার ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে।
এই আতঙ্ক থেকেই সিন্ডিকেটের নেতারা এখন বেপরোয়া। সমাবেশে সহ-সভাপতির বক্তব্যে গত জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে আনার বিষয়টি গভীর ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দেয়। তিনি পরোক্ষভাবে বোঝাতে চেয়েছেন, এনইআইআর ইস্যুকে কেন্দ্র করে তারা দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করবেন, যা সরকারের পতন পর্যন্ত গড়াতে পারে।
‘ফ্যাসিস্টের দোসররাই এখন বিপ্লবী সাজছে’ অনুসন্ধানে জানা গেছে, যেই সিন্ডিকেটটি আজ ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন’-এর উদাহরণ টানছে, সেই সিন্ডিকেটের মূল হোতা আবু সাঈদ পিয়াস এবং তার সহযোগীরাই ছিল সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধান সুবিধাভোগী। সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী পলক ও উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের ছত্রছায়ায় থেকে এই চক্রটিই গত ১৫ বছর ধরে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে।
এখন নিজেদের অবৈধ স্বার্থে আঘাত লাগায়, সেই পুরনো সিন্ডিকেটই ‘বিপ্লবী’ সেজে অন্তর্বর্তী সরকারকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করছে।
সরকারের কঠোর অবস্থান সিন্ডিকেটের এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যের পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। আইসিটি উপদেষ্টা ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব আগেই স্পষ্ট করেছেন যে, কোনো হুমকির কাছে সরকার নতি স্বীকার করবে না। গোয়েন্দা সূত্র বলছে, যারা ব্যবসার আড়ালে সরকার পতনের হুমকি দিচ্ছে এবং বাজার অস্থিতিশীল করার চক্রান্ত করছে, তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।
সাধারণ গ্রাহক ও সচেতন মহল বলছেন, চোর ও মাফিয়া চক্রের এই ‘হুঁশিয়ারি’ রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের জন্য অপমানজনক। এদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা জরুরি।






















