বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিটিআরসি একাধিকবার ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিলেও, প্রতিবারই ‘উচ্চ পর্যায়ের’ নির্দেশে তা বন্ধ করতে হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, মূলত দুর্নীতিগ্রস্ত আওয়ামী লীগ নেতাদের অবৈধ টাকা বিদেশে পাচার (মানিলন্ডারিং) করার নিরাপদ রুট সচল রাখতেই এনইআইআর বাস্তবায়ন আটকে দেওয়া হয়েছিল।
বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকার যখন কঠোরভাবে এই সিস্টেম চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তখন অবৈধ মোবাইল সিন্ডিকেট বিপুল অর্থ খরচ করে ফেসবুকে ক্যাম্পেইন চালিয়ে নিজেদের সাফাই গাওয়ার চেষ্টা করছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের দুর্নীতিগ্রস্ত প্রভাবশালী উপদেষ্টাদের সঙ্গে অবৈধ মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের গভীর সখ্যতা ছিল।
মানিলন্ডারিং মাধ্যম: সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিদেশ থেকে অবৈধ ফোন আনার আড়ালে হাজার হাজার কোটি টাকা হুন্ডির মাধ্যমে দুবাই, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় পাচার করা হতো। এই সিন্ডিকেটই ছিল আওয়ামী নেতাদের কালো টাকা সাদা করা বা বিদেশে পাচারের অন্যতম প্রধান মাধ্যম।
লেনদেন ও মাসোহারা: অভিযোগ রয়েছে, এনইআইআর যাতে চালু না হয়, সেজন্য সিন্ডিকেটের পক্ষ থেকে নিয়মিত মোটা অঙ্কের মাসোহারা পৌঁছে যেত রাজনৈতিক নেতাদের পকেটে। বিটিআরসি যখনই কঠোর হতে চেয়েছে, তখনই মন্ত্রণালয় থেকে ‘জনস্বার্থের’ অজুহাতে তা থামিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ফেসবুকে সিন্ডিকেটের ‘পেইড’ ক্যাম্পেইন সরকার পতনের পর সিন্ডিকেটের রাজনৈতিক আশ্রয়দাতা পালিয়ে গেলেও, তাদের অর্থের দাপট কমেনি। এনইআইআর ঠেকাতে এখন তারা ‘সাইবার যুদ্ধ’ শুরু করেছে।
বিজ্ঞাপনে বিপুল ডলার খরচ করা হচ্ছে: গত কয়েকদিনে ফেসবুকে বিভিন্ন পেজ খুলে এনইআইআর-এর বিরুদ্ধে এবং অবৈধ ফোনের পক্ষে জনমত গড়তে বুস্টিং (বিজ্ঞাপন) করা হচ্ছে। এতে বিপুল পরিমাণ ডলার খরচ করা হচ্ছে।
সাফাই গাওয়ার কৌশল: এসব ক্যাম্পেইনে বলা হচ্ছে—‘অবৈধ ফোন বন্ধ হলে দাম বাড়বে’, ‘গ্রাহক ভোগান্তিতে পড়বে’। কিন্তু আসল সত্য হলো—২০ হাজার কোটি টাকার রিফারবিশড ও চোরাই ফোনের বাজার রক্ষা করাই তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য।
সিন্ডিকেটের স্বরূপ ‘সুমাস টেক’, ‘ড্যাজল’, ‘অ্যাপল গ্যাজেট’ এবং চট্টগ্রামের আরিফুর রহমানের মতো সিন্ডিকেট নেতারা এতদিন আওয়ামী লীগের ছায়াতলে থেকে এই অবৈধ সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করেছেন। এখন তারা ‘সাধারণ ব্যবসায়ী’ সেজে এবং ফেসবুকে টাকা ঢেলে অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছেন।
বিশেষজ্ঞ মতামত প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, এনইআইআর বন্ধ রাখার একমাত্র কারণ ছিল মানিলন্ডারিং ও চোরাচালানকে উৎসাহিত করা। বিগত সরকার যা করেনি, বর্তমান সরকার তা করার সাহস দেখিয়েছে। সিন্ডিকেটের এই অপপ্রচার বা ক্যাম্পেইন প্রমাণ করে যে, তাদের পায়ে কুড়াল পড়েছে।






















