চট্টগ্রামের রিয়াজউদ্দিন বাজার থেকে শখ করে কম দামে একটি আইফোন কিনেছিলেন শাহ আলম। দেশজুড়ে সেটি ব্যবহারও করেছেন নিরাপদে। কিন্তু বিপত্তি ঘটে চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়ার পর। মুম্বাই বিমানবন্দরে নামার পরই সেখানকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে আটক করে। কারণ, শাহ আলমের হাতে থাকা ফোনটি ভারত থেকেই চুরি হয়ে বাংলাদেশে পাচার হয়েছিল।
শাহ আলম একা নন, গত ছয় মাসে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া একাধিক ব্যক্তি রিয়াজউদ্দিন বাজার থেকে কেনা চোরাই মোবাইল সঙ্গে নিয়ে ভারতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন। এতে একদিকে যেমন বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে, অন্যদিকে আইনি জটিলতায় পড়ছেন নিরপরাধ সাধারণ মানুষ।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, চট্টগ্রাম এখন চোরাই ফোন বেচাকেনার আন্তর্জাতিক ‘হাব’ বা কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। দুই দেশের চোরাকারবারিদের যোগসাজশে একটি দ্বিমুখী বাণিজ্য চলছে:
১. ভারত থেকে বাংলাদেশে: ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ছিনতাই হওয়া দামি ফোনগুলো সিলেট ও আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে সোজা চলে আসে রিয়াজউদ্দিন বাজারে।
২. বাংলাদেশ থেকে ভারতে: চট্টগ্রাম বা ঢাকায় ছিনতাই হওয়া ফোনগুলো রিয়াজউদ্দিন বাজারে এনে আইএমইআই (IMEI) পরিবর্তন করে আবার ভারতে পাচার করে দেওয়া হয়।
রিয়াজউদ্দিন বাজারে মোবাইল ফোন মেরামতকারী কয়েকশো টেকনিশিয়ান ফোনের আইএমইআই (ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইক্যুইপমেন্ট আইডেনটিটি) কোড পরিবর্তনের কাজে লিপ্ত। কোনো মোবাইলের আইএমইআই পরিবর্তন করা গেলেই সেটি নিরাপদ মনে করে ভারতে বা দেশের অন্য প্রান্তে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রিয়াজউদ্দিন বাজারের মক্কা টাওয়ার, নালা হকার মার্কেট, রিজোয়ান কমপ্লেক্স, কালাম মার্কেট, ইসলাম মার্কেট, জলসা মার্কেট, করিম সুপার মার্কেট ও সিডিএ মার্কেটসহ শতাধিক মার্কেটে প্রকাশ্যে চলছে চোরাই ফোনের রমরমা ব্যবসা।
বাজারের বৈধ মোবাইল ব্যবসায়ী খালেদ হোসাইন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এখানে প্রায় হাজারের কাছাকাছি দোকান আছে, যার অধিকাংশেই চোরাই ফোন বিক্রি হচ্ছে। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে চলা এসব কারবারের কারণে সরকার বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে এবং আমরা যারা বৈধভাবে ব্যবসা করছি, তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।”
গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, রিয়াজউদ্দিন বাজারে চোরাই ফোনের ওপর নজরদারি বা গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত আছে। তবে সেখানে অভিযান চালানো বেশ চ্যালেঞ্জিং। কারণ, সরু গলি এবং সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের কারণে অভিযানে গেলে জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়। তাই পুলিশ কৌশলে এগোচ্ছে।
তবে বৈধ ব্যবসায়ীরা দাবি জানিয়েছেন, নিরীহ গ্রাহকদের আইনি ঝামেলা থেকে বাঁচাতে এবং দেশের সুনাম রক্ষায় রিয়াজউদ্দিন বাজারে অবিলম্বে বড় পরিসরে অভিযান পরিচালনা করা জরুরি।






















