বরিশালের মোবাইল ফোনের বাজার এখন ভারতীয় চোরাই হ্যান্ডসেট এবং চীন থেকে যন্ত্রাংশ এনে তৈরি করা নকল বা ‘ক্লোন’ স্মার্টফোনে সয়লাব। ফজলুল হক এভিনিউ, গীর্জা মহল্লা এবং ফাতেমা সেন্টারসহ নগরীর প্রধান প্রধান মার্কেটগুলো এখন এসব অবৈধ ফোনের দখলে।
এর ফলে সরকার হারাচ্ছে মোটা অংকের রাজস্ব, আর অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ খ্যাত বৈধ মোবাইল কোম্পানিগুলো। অন্যদিকে, কম দামের লোভে পড়ে নকল ফোন কিনে আর্থিক ক্ষতি ও মারাত্মক নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ছেন সাধারণ গ্রাহকরা।
সরেজমিনে বরিশালের বাজার ঘুরে দেখা গেছে এক ভয়াবহ চিত্র। বর্তমানে স্যামসাং এস ২৩ আল্ট্রা (Samsung S23 Ultra) মডেলের হ্যান্ডসেটটি অফিসিয়াল ব্র্যান্ড শপে বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২ লাখ টাকায়। অথচ পাশেই অবৈধ দোকানগুলোতে বক্সবিহীন বা ‘লাগেজ পার্টি’র মাধ্যমে আসা একই মডেলের (নকল বা রিফারবিশড) ফোন পাওয়া যাচ্ছে এক লাখ টাকারও নিচে।
অর্ধেক দামের এই ফাঁদে পা দিয়ে গ্রাহকরা দেশীয় বা বৈধ হ্যান্ডসেটের পরিবর্তে নকল ও চোরাই ফোনের দিকে ঝুঁকছেন।
অভিযোগ রয়েছে, চীন থেকে নিম্নমানের যন্ত্রাংশ আমদানি করে স্থানীয়ভাবে এসব নকল ফোন তৈরি করা হচ্ছে। ব্যবহারের কিছু দিন না যেতেই এগুলোর ডিসপ্লে, ক্যামেরা ও স্পিকার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
সবচেয়ে ভয়ের বিষয় হলো নিরাপত্তা ঝুঁকি। কোনো নিয়ম বা মান নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই তৈরি এসব ফোনে প্রায়ই ব্যাটারি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মোবাইল বিস্ফোরণের যেসব ভয়াবহ চিত্র দেখা যায়, তার ৯৯ শতাংশই ঘটছে এসব নকল বা মানহীন ফোনের ক্ষেত্রে। গ্রাহকরা লাখ লাখ টাকা খরচ করে মূলত নিজের পকেটে ‘টাইম বোমা’ নিয়ে ঘুরছেন।
বেশিরভাগ ফোন চোরাই পথে আসায় এগুলোর সঙ্গে কোনো বৈধ কাগজপত্র বা বক্স থাকে না। ফলে এসব ফোন হারিয়ে গেলে বা চুরি হলে প্রশাসনের পক্ষে তা উদ্ধার করা সম্ভব হয় না। অন্যদিকে, সরকারের ডেটাবেজে কোনো তথ্য না থাকায় অপরাধীরা এসব ফোন ব্যবহার করে নির্বিঘ্নে অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
অবৈধ ফোনের দাপটে বৈধ ব্যবসায়ীদের পিঠ দেয়ালে ঠেকেছে। বরিশাল স্যামসাং ব্র্যান্ড শপের (সদর রোড শাখা) ম্যানেজার আল আমিন বলেন, “অবৈধ ও নকল মোবাইলের কারণে আমাদের বিক্রি ৬০ শতাংশ কমে গেছে। বরিশালে ব্যাঙের ছাতার মতো অবৈধ চোরাই ফোনের মার্কেট তৈরি হচ্ছে। আমরা দ্রুত এসব অবৈধ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।”
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখনই যদি এই অবৈধ বাজার নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তবে দেশের উদীয়মান মোবাইল উৎপাদন শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়বে।






















