২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী পর্যটন খাত কভিড-১৯ মহামারীর আগের চেয়ে ভালো অবস্থানে থাকবে বলে জানিয়েছে বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চ। বিদেশ ভ্রমণকারীদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে সহজ ও সাশ্রয়ী যোগাযোগ ব্যবস্থা। ব্যয়বহুল রোমিং বা স্থানীয় সিম কেনার ঝামেলা এড়াতে অনেকেই এখন ই-সিমে আগ্রহী হচ্ছেন। কাউন্টারপয়েন্ট বলছে, উন্নত ই-সিম প্রযুক্তি এবং এটি ফোনে দ্রুত সক্রিয় করার সুবিধার কারণে চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে। ২০২৫-৩০ সালের মধ্যে তৃতীয় পক্ষের ট্রাভেল ই-সিমের ব্যবহার প্রায় তিন গুণ বাড়বে।
বর্তমানে ট্রাভেল ই-সিম সাধারণ রোমিংয়ের তুলনায় প্রায় অর্ধেক দামে পাওয়া যায়। একই দামে অনেক সময় দ্বিগুণ ডাটা পাওয়া যায়। ই-সিমগুলো অ্যাপ থেকে কেনা যায়, আর প্রিপেইড হওয়ায় দাম আগেই স্পষ্টভাবে জানা যায়। ফলে অতিরিক্ত চার্জ পরিশোধ করতে হয় না। প্রয়োজন হলে একই অ্যাপ থেকে সহজে রিচার্জ করার সুবিধা ও রয়েছে।
এসব সুবিধা ডিজিটাল প্লাটফর্মভিত্তিক ই-সিম বিক্রেতাদের জনপ্রিয় করে তুলেছে। তাদের ব্যবসা দ্রুত বাড়ছে। এয়ারলাইনস, হোটেল ও অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে অংশীদারত্বের কারণে তারা আরো বেশি ভ্রমণকারীর কাছে পৌঁছতে পারছেন।
গত এক বছরে সিঙ্গাপুরভিত্তিক এয়ারালো, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রুলি ও কানাডার কোলেটের মতো ই-সিম বিক্রেতারা নতুন তহবিল পেয়েছে। তারা প্রযুক্তি উন্নয়ন ও বাজার সম্প্রসারণে বিনিয়োগ করছে। এ খাতে বিনিয়োগকারীদের আস্থাও বাড়ছে।
স্পেনভিত্তিক ই-সিম বিক্রেতা হোলাফ্লাই মহামারী-পরবর্তী সময়ে ৫০ কোটি ডলারের বেশি আয় করেছে। এয়ারালো এখন একটি ইউনিকর্ন কোম্পানি, যার বাজারমূল্য ১০০ কোটি ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের নোম্যাড ই-সিম গত এক বছরে বিক্রিতে ১০০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি পেয়েছে।
স্মার্টফোনে ই-সিম ব্যবহারের প্রযুক্তি দ্রুত বাড়ছে। কাউন্টারপয়েন্টের তথ্যানুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোনের ৮০ শতাংশই ই-সিম বা আই-সিম সমর্থিত হবে। অন্যদিকে ভিওআইপি অ্যাপের কারণে ভ্রমণকারীদের ভয়েস কলের চাহিদা কমছে। ফলে তারা কম দামে ডাটা দিচ্ছে এমন ই-সিম কিনতে বেশি আগ্রহী হচ্ছেন।
তবে এ খাতে কিছু চ্যালেঞ্জও আছে। বৈশ্বিক মোবাইল অপারেটররা এখন রোমিং প্যাক নতুনভাবে সাজাচ্ছে। অপারেটরগুলো নিজস্ব ট্রাভেল ই-সিমও বাজারে আনছে। ফলে প্রতিযোগিতা বাড়ছে। অন্যদিকে বাজারে সহজে প্রবেশের সুযোগ থাকায় নতুন অনেক কোম্পানি দ্রুত কার্যক্রম শুরু করছে। এতে ভালো প্যাকেজের ক্ষেত্রেও প্রতিযোগিতা বাড়ছে। ব্যবহারকারী ধরে রাখাও কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।
কাউন্টারপয়েন্ট জানিয়েছে, আগামী দিনে ই-সিমের শুধু দাম কমানোই যথেষ্ট হবে না। নিরাপত্তা, স্বচ্ছ মূল্যনির্ধারণ ও শক্তিশালী অংশীদারত্বের ওপর জোর দিতে হবে। যারা আস্থা ও নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ নিশ্চিত করতে পারবে, তারাই বৈশ্বিক ট্রাভেল ই-সিম বাজারে টিকে থাকবে।






















