স্মার্টফোন বিক্রিতে ১৪ বছরে প্রথমবারের মতো স্যামসাংকে ছাড়িয়ে যাবে অ্যাপল। চলতি বছর অ্যাপল প্রায় ২৪ কোটি ৩০ লাখ আইফোন বিক্রি করবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বাজার গবেষণা সংস্থা কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চ। অন্যদিকে স্যামসাংয়ের স্মার্টফোন বিক্রি দাঁড়াবে ২৩ কোটি ৫০ লাখ ইউনিটে। এখন পর্যন্ত বিশ্বসেরা স্মার্টফোন নির্মাতা হিসেবে শীর্ষে রয়েছে স্যামসাং।
কাউন্টারপয়েন্টের তথ্যানুযায়ী চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) আইফোন বিক্রিতে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখেছে অ্যাপল। ফলে স্মার্টফোন বাজারে কোম্পানিটির হিস্যা পৌঁছেছে ১৯ দশমিক ৪ শতাংশে।
কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের সিনিয়র বিশ্লেষক ইয়াং ওয়াং বলেছেন, ‘আইফোন ১৭ সিরিজে বেশ ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। পাশাপাশি অনেকেই এখন নতুন ফোন কেনায় আগ্রহ দেখাচ্ছেন। বিশেষ করে কভিড-১৯ সময়কালে যারা স্মার্টফোন কিনেছিলেন, তারা এখন ফোন আপগ্রেডের পর্যায়ে প্রবেশ করছেন।’
সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৯ সাল পর্যন্ত বিশ্বসেরা স্মার্টফোন নির্মাতা হিসেবে শীর্ষে থাকবে অ্যাপল। সেই সঙ্গে চলতি বছর শেষে আইফোন বিক্রি ১০ শতাংশ বাড়বে, যা সামগ্রিক স্মার্টফোন বাজারের ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধির তুলনায় বেশি।
যুক্তরাষ্ট্রে আইফোন ১৭ সিরিজ মুক্তির প্রথম চার সপ্তাহে আগের সিরিজের তুলনায় বিক্রি ১২ শতাংশ বাড়ে। একই সময়ে চীনে বিক্রি আরো শক্তিশালী হয়ে ওঠে। গত অক্টোবরে চীনের বাজারে আইফোনের বিক্রি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৭ শতাংশ বাড়ে। ২০২২ সালের পর এবারই প্রথম অ্যাপল এমন মাইলফলক স্পর্শ করে। অন্যদিকে শাওমি-হুয়াওয়ের মতো চীনা ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে স্যামসাং। ফলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, লো থেকে মিড রেঞ্জ স্মার্টফোনে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে দক্ষিণ কোরিয়ার টেক জায়ান্টটি। এতে বিশ্বসেরা স্মার্টফোন নির্মাতা হিসেবে স্যামসাংয়ের জন্য শীর্ষ অবস্থান ধরে রাখা কঠিন হতে পারে।
কাউন্টারপয়েন্ট আরো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে শুল্কের প্রভাব প্রত্যাশার তুলনায় কম এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা শিথিল হওয়ায় সুবিধা পেয়েছে অ্যাপল। আইফোনের বিক্রি বাড়াতে ১৭ সিরিজের পাশাপাশি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চালক হলো ব্যবহৃত আইফোনের বাজার। ২০২৩-২৫ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত ৩৫ কোটি ৮০ লাখ সেকেন্ড-হ্যান্ড আইফোন বিক্রি হয়েছে বিশ্বজুড়ে।
তবে কাউন্টারপয়েন্টের মতে, অ্যাপলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ফিচারগুলো আইফোন সিরিজের বিক্রিতে বড় প্রভাব ফেলেনি। কারণ গ্রাহক এখনো ব্যাটারি লাইফ, ক্যামেরার কার্যকারিতা এবং ডিজাইনকে এআই ফিচারের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
এদিকে আগামী বছর বাজেট আইফোন ১৭ই ও প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন উন্মোচনের পরিকল্পনা করেছে অ্যাপল। এতে কোম্পানিটির বিক্রি আরো বাড়ার সম্ভাবনা দেখেছেন বাজার বিশ্লেষকরা। পাশাপাশি অ্যাপলের শক্তিশালী ব্যবসায়িক ভিত্তি এবং আসন্ন আইফোন মডেলগুলো কোম্পানি ও এর বাজার হিস্যার জন্য লাভজনক হবে। তবে র্যাম ও অন্যান্য স্মার্টফোন উপাদানের দাম বাড়ায় ২০২৬ সালে বাজারে কিছু চাপ ও চ্যালেঞ্জ দেখা দিতে পারে।
তবু বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, খরচ বৃদ্ধির আশঙ্কা থাকলেও স্মার্টফোনের বাজারে অ্যাপলের অবস্থান এখনো শক্তিশালী। বিশেষ করে উচ্চমানের হার্ডওয়্যার, আকর্ষণীয় ডিজাইন এবং শক্তিশালী ব্র্যান্ড ইমেজের কারণে আইফোনের জনপ্রিয়তা ও চাহিদা দুটোই বাড়ছে।






















