দেশের বাজারে অবৈধ, চোরাই এবং রিফারবিশড ফোনের দাপটে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে বৈধ মোবাইল ফোন ব্যবসা। বিপুল পরিমাণ ভ্যাট-ট্যাক্স দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করা আমদানিকারক ও দেশীয় উৎপাদনকারীরা ‘গ্রে মার্কেট’ সিন্ডিকেটের সঙ্গে অসম প্রতিযোগিতায় আর পেরে উঠছেন না।
বৈধ ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, সরকার যদি ১৬ ডিসেম্বর থেকে কঠোরভাবে এনইআইআর (NEIR) বাস্তবায়ন না করে এবং অবৈধ ফোনের বাজার নিয়ন্ত্রণ না করে, তবে বাধ্য হয়ে তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নিতে হবে। এতে পথে বসবে হাজারো বৈধ ব্যবসায়ী এবং বন্ধ হয়ে যেতে পারে দেশে গড়ে ওঠা ১৭টি মোবাইল কারখানা।
রাজধানীর মোতালেব প্লাজা, বসুন্ধরা সিটি এবং চট্টগ্রামের রিয়াজউদ্দিন বাজারের চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, একটি বৈধ ফোনের তুলনায় অবৈধ ফোনের দাম ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কম।
সরকার নির্ধারিত প্রায় ৩০-৫৭ শতাংশ কর পরিশোধ করে একটি বৈধ ফোন যদি বাজারে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়, তবে চোরাই পথে আসা একই মডেলের ফোন সিন্ডিকেট বিক্রি করছে ২০-২২ হাজার টাকায়।
সাধারণ ক্রেতারা কম দামের লোভে অবৈধ ফোন কিনছেন। ফলে বৈধ শোরুমগুলোতে বিক্রি শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।
বৈধ ব্যবসায়ীরা বলেন, “আমরা সরকারকে রাজস্ব দিয়ে ব্যবসা করছি, আর চোররা বিনা শুল্কে পণ্য এনে বাজার দখল করছে। এই অবস্থায় আমাদের দোকান ভাড়া ও কর্মচারীদের বেতন দেওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে বৈধ ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া উপায় নেই।”
গত কয়েক বছরে স্যামসাং, শাওমি, ভিভো, অপো, রিয়েলমিসহ প্রায় সব বড় ব্র্যান্ড বাংলাদেশে কারখানা স্থাপন করেছে। এই খাতে বিনিয়োগ হয়েছে প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার কোটি টাকা। কর্মসংস্থান হয়েছে লক্ষাধিক মানুষের। কিন্তু বাজারের ৬০-৭০ শতাংশ অবৈধ ফোনের দখলে চলে যাওয়ায় এসব কারখানার উৎপাদন কমিয়ে দিতে হচ্ছে। অবৈধ ফোনের লাগাম টানা না গেলে এসব কারখানা লে-অফ বা বন্ধ ঘোষণা করতে হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।
বৈধ ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করছেন, ‘সুমাস টেক’, ‘ড্যাজল’ বা চট্টগ্রামের আরিফুর রহমানের মতো সিন্ডিকেট নেতারা এখন এতটাই বেপরোয়া যে, তারা বৈধ ব্যবসায়ীদের হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। ৩০ নভেম্বর অবৈধ ব্যবসায়ীদের ডাকা ধর্মঘটের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ায় অনেক বৈধ ব্যবসায়ী নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছেন।
বৈধ মোবাইল শিল্পকে বাঁচাতে এনইআইআর (NEIR) বা মোবাইল ফোন নিবন্ধন ব্যবস্থাকেই একমাত্র সমাধান হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে এটি চালু হলে অবৈধ ফোন নেটওয়ার্কে সচল হবে না।
১৬ ডিসেম্বরের আগে এই সিন্ডিকেট বাজার অস্থিতিশীল করে এনইআইআর প্রক্রিয়া বানচাল করতে পারে—এমন আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বৈধ ব্যবসায়ীরা।






















