রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারা মোড় (গোলচত্বর) দখল করে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে অবৈধ মোবাইল ফোন আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের একটি সিন্ডিকেট। আজ রোববার (৩০ নভেম্বর) সকাল ১১টার দিকে ‘মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ’ নামের একটি সংগঠনের ব্যানারে হঠাৎ করেই এই কর্মসূচি শুরু হয়।
পূর্বঘোষিত হলেও পুলিশের অনুমতি ছাড়াই জনবহুল এই সড়কটি অবরোধ করায় মুহূর্তের মধ্যে ফার্মগেট, তেজগাঁও, বাংলামোটর ও বিজয় সরণি পর্যন্ত তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে সপ্তাহ শুরুর দিনে চরম ভোগান্তিতে পড়েন অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও রোগীবাহী যানবাহনের যাত্রীরা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেছেন, যারা আজ রাস্তা দখল করেছেন, তারা মূলত অবৈধ বা ‘গ্রে মার্কেট’ মোবাইল আমদানিকারক ও কথিত স্মার্টফোন স্মাগলার। আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে সরকার ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) ব্যবস্থা কঠোরভাবে কার্যকর করতে যাচ্ছে। এই সিস্টেমে অবৈধ, চোরাই ও ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে আনা ফোন নেটওয়ার্কে সচল হবে না।
দীর্ঘদিনের অবৈধ ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় এই সিন্ডিকেটটি এখন মরিয়া হয়ে উঠেছে। নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা এবং সরকারকে চাপে ফেলতেই তারা সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রাস্তায় নেমেছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
সকাল ১১টায় কারওয়ান বাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট বন্ধ করে দেওয়ায় রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়ে। দীর্ঘ সময় যান চলাচল স্থবির হয়ে থাকায় অনেককে বাস থেকে নেমে কয়েক কিলোমিটার পথ হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়।
অ্যাম্বুলেন্সে থাকা এক রোগীর স্বজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ব্যবসায়িক দাবির জন্য রাস্তা বন্ধ করে মানুষকে জিম্মি করা কোন ধরনের আন্দোলন? এরা তো দেশের আইনই মানে না।”
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা দাবি করেন, তারা ‘বৈধ ব্যবসার অধিকার’ চান। তবে ব্যবসায়ী মহলের একটি বড় অংশ এবং সাধারণ ব্যবসায়ীরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের মতে, যারা ভ্যাট-ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে লাগেজ পার্টি বা চোরাই পথে ফোন আনে, তারাই আজ রাস্তায় নেমেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বৈধ মোবাইল আমদানিকারক বলেন, “অবৈধ ফোনের কারণে সরকার প্রতিবছর হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। আর বাজারে নকল ও রিফারবিশড ফোনের ছড়াছড়ি। অভিযানের মুখোমুখি হওয়ার সাহস না থাকায় এই চক্রটি এখন উল্টো রাস্তায় নেমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। এটি এনইআইআর বানচাল করার একটি গভীর ষড়যন্ত্র।”
অনুমতি ছাড়া এমন জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ। পুলিশ প্রশাসনকে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে দেখা যায়, তবে ততক্ষণে নগরবাসীকে পোহাতে হয়েছে দীর্ঘ সময়ের যানজট।






















