আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) পূর্ণাঙ্গরূপে বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে নেটওয়ার্কে অবৈধ বা অনিবন্ধিত ফোন আর সচল থাকবে না। কিন্তু সরকারের এই উদ্যোগকে চ্যালেঞ্জ জানাতে এবং শেষ সময়ে সাধারণ মানুষের পকেট কাটতে এক গভীর ষড়যন্ত্রে নেমেছে অবৈধ মোবাইল সিন্ডিকেট।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজধানীর মোতালেব প্লাজা, গুলিস্তান এবং চট্টগ্রামের রিয়াজউদ্দিন বাজারকেন্দ্রিক সিন্ডিকেটটি বর্তমানে অবৈধ ফোন বিক্রি না করে গোপনে তা মজুদ (Stockpile) করছে। তাদের পরিকল্পনা—১৬ ডিসেম্বরের ঠিক আগে বা পরে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ফোন সাধারণ গ্রাহকের কাছে গছিয়ে দেওয়া।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সিন্ডিকেটের এই মজুদের পেছনে তিনটি মূল উদ্দেশ্য কাজ করছে:
১. শেষ সময়ে ডাম্পিং: ১৬ ডিসেম্বর এনইআইআর চালু হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে বা অব্যবহিত পরে গ্রামের সহজ-সরল মানুষের কাছে ‘ডিসকাউন্ট’-এর প্রলোভন দেখিয়ে এই ফোনগুলো বিক্রি করা হবে। গ্রাহক কেনার পর যখন দেখবে সিম কাজ করছে না, ততক্ষণে সিন্ডিকেট টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যাবে।
২. কৃত্রিম সংকট তৈরি: বাজার থেকে ফোন সরিয়ে নিয়ে তারা বোঝাতে চাইবে যে, এনইআইআর-এর কারণে বাজারে ফোনের সংকট দেখা দিয়েছে। এতে ফোনের দাম বাড়িয়ে বাড়তি মুনাফা লুটে নেওয়ার ছক কষছে তারা।
৩. ‘প্রি-অ্যাক্টিভেটেড’ বলে ধোঁকা: মজুদ করা ফোনগুলো তারা ভুয়া নিবন্ধনের কথা বলে বা ‘আগে থেকেই চালু করা’ (Pre-activated) বলে চড়া দামে বিক্রি করার পরিকল্পনা করছে।
সিন্ডিকেটের মূল টার্গেট এবার ঢাকা বা বড় শহর নয়, বরং মফস্বল ও গ্রাম। কারণ শহরের মানুষ এনইআইআর সম্পর্কে অনেকটা সচেতন। তাই মজুদ করা হাজার হাজার অবৈধ হ্যান্ডসেট জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের ছোট দোকানগুলোতে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক খুচরা বিক্রেতা জানান, “বড় মহাজনরা আমাদের ফোন হোল্ড করতে বলছেন। তারা বলছেন, ১৬ তারিখের পর নাকি এই ফোনের দাম আরও বাড়বে। তাই আমরাও স্টক করছি।”
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এই সময়ে মজুদ করা অবৈধ ফোন কেনা মানে টাকা ও ফোন—দুটোই হারানো।
-
১৬ ডিসেম্বরের পর অনিবন্ধিত ফোন কিনলে তা বিটিআরসি’র নেটওয়ার্কে সচল হবে না।
-
সিন্ডিকেটের মজুদের ফাঁদে পা দিলে সেই ফোনটি শেষ পর্যন্ত ‘মিডিয়া প্লেয়ার’ বা খেলনা ছাড়া আর কিছুই থাকবে না।
বিটিআরসি সূত্র জানিয়েছে, তারা সিন্ডিকেটের এই অপতৎপরতা সম্পর্কে অবগত। ১৬ ডিসেম্বর থেকে এনইআইআর সিস্টেমে অনিবন্ধিত কোনো আইএমইআই (IMEI) চালু হবে না। তাই গ্রাহকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোনো প্রলোভনে পড়ে যাচাই-বাছাই ছাড়া ফোন কিনলে তার দায়ভার বিটিআরসি নেবে না।






















