দীর্ঘ ১৮ বছর পর অবরুদ্ধ দশা থেকে মুক্ত হলো ৭০০ মেগাহার্জ (700 MHz) ব্যান্ড তরঙ্গ। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাহসী পদক্ষেপ এবং দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর এই তরঙ্গ উন্মুক্ত করার মাধ্যমে বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে। এই তরঙ্গ নিলামের ফলে সরকারের রাজস্ব আয়ের পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ২ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা।
২০০৭ সালে আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ সংস্থা (ITU) এই ৭০০ মেগাহার্জকে মোবাইল সার্ভিসের জন্য ‘প্রাইমারি ব্যান্ড’ হিসেবে ঘোষণা করেছিল। তবে বাংলাদেশে এটি দীর্ঘ সময় ধরে একটি প্রভাবশালী মহলের হাতে জিম্মি ছিল। বর্তমান সরকারকে এই তরঙ্গ পুনরুদ্ধার করতে দুই স্তরের দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া পার হতে হয়েছে। অবশেষে ১৮ বছর পর এটি সর্বসাধারণের টেলিযোগাযোগ সেবার জন্য উন্মুক্ত হলো।
বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৭০০ মেগাহার্জ তরঙ্গ মোবাইল সেবায় যুক্ত হতে চলেছে। প্রযুক্তিবিদদের মতে, লো-ব্যান্ডের এই তরঙ্গের কাভারেজ ক্ষমতা অনেক বেশি। এর ফলে:
ইনডোর কাভারেজ: ভবনের ভেতরে বা বেজমেন্টে মোবাইল নেটওয়ার্কের সমস্যা দূর হবে।
নেটওয়ার্ক বিস্তার: গ্রাম ও দুর্গম এলাকাগুলোতে অত্যন্ত শক্তিশালী সিগন্যাল পৌঁছানো সম্ভব হবে।
প্রযুক্তির উন্নয়ন: এর মাধ্যমে উন্নত মানের 4G এবং দ্রুতগতির 5G সেবার বিস্তারের পথ প্রশস্ত হলো।
সরকার কেবল ৭০০ মেগাহার্জেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। খুব শীঘ্রই ই-জিএসএম (E-GSM) ব্যান্ডসহ লোয়ার ব্যান্ডের অন্যান্য অব্যবহৃত তরঙ্গগুলোও উন্মুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। সেখান থেকেও ক্রমান্বয়ে আরও প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার বিশাল রাজস্ব আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সরকারি টেলিযোগাযোগ সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান টেলিটক-এর সেবার মান বাড়াতেও বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের কাছে কম মূল্যে উন্নত সেবা পৌঁছে দিতে টেলিটকের জন্যও লোয়ার ব্যান্ড তরঙ্গ বরাদ্দের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার।
টেলিযোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা এই সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশের ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য ‘মাইলফলক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত পড়ে থাকা এই জাতীয় সম্পদকে কাজে লাগিয়ে সরকার একদিকে যেমন বিশাল রাজস্ব পাচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ গ্রাহকরাও উন্নত ও নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেটের অভিজ্ঞতা পাবেন।






















