দেশে অবৈধ মোবাইল হ্যান্ডসেট বন্ধ এবং ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (NEIR) চালু করার পক্ষে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও মোবাইল ইন্ডাস্ট্রির ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আমিনুল হক। তার মতে, এটি কেবল একটি প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ নয়, বরং দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং জাতীয় নিরাপত্তার সাথে সরাসরি জড়িত।
রাজস্ব সুরক্ষা ও এনবিআরের অবস্থান
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আমিনুল হক বলেন, “এনবিআর চায় বছরে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার যে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব সরকার হারাচ্ছে, সেটি উদ্ধার করতে।” অবৈধভাবে মোবাইল আমদানির ফলে সরকার বিশাল অংকের শুল্ক থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, যা এনইআইআর সিস্টেম চালুর মাধ্যমে ঠেকানো সম্ভব।
বিনিয়োগের নিরাপত্তা ও বিডার ভূমিকা
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর পক্ষ থেকে এনইআইআরের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি জানান, অনেক বিদেশি কোম্পানি বাংলাদেশে হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করে মোবাইল উৎপাদন কারখানা স্থাপন করেছে। তিনি বলেন, “বিডা চায় এই বিদেশি বিনিয়োগের সুরক্ষা দিতে। কারণ অবৈধ ফোনের দৌরাত্ম্য থাকলে দেশীয় উৎপাদকরা অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
আইনশৃঙ্খলা ও জনগণের নিরাপত্তা
জননিরাপত্তার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলো চায় জনগণের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার জন্য এনইআইআর কার্যকর হোক।” ছিনতাই বা চুরি হওয়া মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সংঘটিত অপরাধ রোধ করতে এবং অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করতে এই নিবন্ধন ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই।
সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ
আমিনুল হকের মতে, বিটিআরসি, এনবিআর এবং বিডা—সবগুলো সংস্থাই এই সিস্টেমটি চালুর বিষয়ে একমত। কারণ এখানে জাতীয় স্বার্থের নানা দিক জড়িত। মোবাইল ইন্ডাস্ট্রিও চায় একটি সুস্থ ও শৃঙ্খলিত বাজার ব্যবস্থা, যেখানে বৈধ ব্যবসায়ীরা কোনো বাধার সম্মুখীন হবেন না।






















