দুই দফা স্থগিত ও সিদ্ধান্তহীনতার পর অবশেষে ভোটের মাত্র তিন দিন আগে কাল ৮ ফেব্রুয়ারি আবারও কমিশন বৈঠকে বসছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। ৩০৪ নম্বর কক্ষে অনুষ্ঠিতব্য এই ৩০৪তম বৈঠককে কেন্দ্র করে সংস্থার ভেতরে-বাইরে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। একদিকে বিতর্কিত কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ঠেকাতে আইনি নোটিশ, অন্যদিকে নতুন লাইসেন্স গাইডলাইনের অনুমোদন—সব মিলিয়ে বিটিআরসির আগামীর পথচলা কোন দিকে যায়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে টেলিকম খাত।
বৈঠকের মূল এজেন্ডা: নতুন লাইসেন্স কাঠামো
বিটিআরসি চেয়ারম্যান এমদাদ উল বারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠকে নতুন লাইসেন্স গাইডলাইন চূড়ান্ত অনুমোদন পেতে পারে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিদ্যমান আইসিএক্স, আইজিডব্লিউ, আইআইজি ও নিক্স লাইসেন্স বাতিল করে সেগুলোকে চারটি ক্যাটাগরিতে (আইসিএসপি, এনআইসিএসপি, সিএমএসপি ও এফটিএসপি) একীভূত করা হবে। এটি কার্যকর হলে সেবার স্তর কমে আসবে এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পদোন্নতি ও ‘ডিমান্ড অব জাস্টিস’
বৈঠকের অন্যতম প্রধান ও বিতর্কিত বিষয় হলো কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতি। বিশেষ করে ৯ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব কর্মকর্তাদের পদোন্নতি নিয়ে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ এবার আইনি নোটিশে রূপ নিয়েছে। গত ৫ ফেব্রুয়ারি ছয়জন উপপরিচালকের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিহাব উদ্দিন খান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে একটি আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন।
নোটিশের মূল অভিযোগসমূহ:
অবৈধ নিয়োগ: অতীতে নিয়মবহির্ভূতভাবে ২৯ জনকে ‘জুনিয়র কনসালট্যান্ট’ থেকে সরাসরি সহকারী পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, যেখানে বয়স ও যোগ্যতার শর্ত মানা হয়নি।
তদন্ত ও শ্বেতপত্র: অভ্যন্তরীণ অডিট, মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা এবং টাস্কফোর্সের তদন্তে এই নিয়োগগুলোকে ‘অবৈধ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে পদোন্নতি দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
দুদকের তদন্ত: ২০২৫ সালে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এসব অনিয়ম নিয়ে তদন্ত শুরু করলেও পদোন্নতি প্রক্রিয়া তড়িঘড়ি করে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি
আইনি নোটিশে বলা হয়েছে, জাতীয় নির্বাচনের আগে বিতর্কিত কর্মকর্তাদের পরিচালক পদে পদোন্নতি দেওয়ার এই চেষ্টা সুশাসনের পরিপন্থী ও সাংবিধানিক অধিকারের লঙ্ঘন। যদি বিতর্কিতদের পদোন্নতি বিবেচনা করা হয়, তবে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
অসন্তোষের মুখে প্রশাসন
টেলিকম বিশ্লেষকদের মতে, বিটিআরসির মতো সংবেদনশীল সংস্থায় নিয়োগ ও পদোন্নতি নিয়ে এমন অস্থিরতা প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি সংকটে ফেলছে। বৈধ কর্মকর্তাদের বঞ্চিত করে বিতর্কিতদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে এটি দীর্ঘমেয়াদে পুরো টেলিকম খাতের শাসনব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
আগামীকালের বৈঠকে কমিশন শেষ পর্যন্ত আইনি বিধিনিষেধ ও শ্বেতপত্রের সুপারিশ মানে নাকি বিতর্কিতদের পক্ষে অবস্থান নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।






















