দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ভঙ্গুর অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) বা অবৈধ মোবাইল হ্যান্ডসেট বন্ধের প্রযুক্তি চালু করেছে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও নীতি-নির্ধারকদের মতে, অপরাধীদের লাগাম টেনে ধরতে এবং রাষ্ট্রীয় রাজস্বের বিশাল ঘাটতি পূরণ করতে এই সিস্টেমের কোনো বিকল্প নেই। তবে এই মহতী উদ্যোগ ঠেকাতে এখন মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছে একটি শক্তিশালী অবৈধ ব্যবসায়ী চক্র।
আওয়ামী আমলে জয়েই আটকে ছিল প্রকল্প: অভিযোগ রয়েছে, বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে এনইআইআর চালু করার একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও ব্যবসায়িক সিন্ডিকেটের চাপে তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি বিটিআরসি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের সরাসরি হস্তক্ষেপে প্রকল্পটি চালু হওয়ার পরপরই রহস্যজনকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। তৎকালীন প্রভাবশালী মন্ত্রী ও আমলাদের বিপুল পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজ করে নিয়েছিল অবৈধ আমদানিকারক গোষ্ঠীটি। ফলে বছরের পর বছর রাষ্ট্র হাজার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারালেও পকেট ভারি হয়েছে গুটিকয়েক মাফিয়া চক্রের।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পুনরায় এই প্রকল্প হাতে নেওয়ায় বিপাকে পড়েছে সেই অসাধু গোষ্ঠী। বর্তমান সরকারের আমলা ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের অর্থের বিনিময়ে বশ করতে না পেরে তারা এখন তথাকথিত ‘আন্দোলনের’ পথ বেছে নিয়েছে। অবৈধ ফোন ব্যবসায়ীদের এই অপতৎপরতা এবং বিভিন্ন মহলে তাদের লবিংয়ের নেপথ্যে রয়েছে মূলত চোরাচালানের রাজত্ব টিকিয়ে রাখার চেষ্টা।
কেন এই সিস্টেম বর্তমান সরকারের জন্য অপরিহার্য:
অপরাধীদের ‘সেফ জোন’ ধ্বংস: অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দেশে সংঘটিত অধিকাংশ চাঞ্চল্যকর অপরাধের নেপথ্যে থাকে অনিবন্ধিত হ্যান্ডসেট। সম্প্রতি শহিদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ঘাতকদের কাছে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সেট ও সিম পাওয়া গেছে। এনইআইআর চালু থাকলে প্রতিটি ফোন এনআইডি-র সাথে যুক্ত থাকবে, ফলে অপরাধীরা আর পার পাবে না।
রাজস্বের জোয়ার ও চোরাচালান রোধ: প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকার হ্যান্ডসেট অবৈধ পথে আসায় সরকার বিশাল অংকের ভ্যাট-ট্যাক্স হারাচ্ছে। সিস্টেমটি পূর্ণাঙ্গ চালু হলে চোরাচালান বন্ধ হবে এবং রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হবে বিপুল রাজস্ব।
দেশি শিল্পের পুনর্জন্ম: বাংলাদেশে গড়ে ওঠা বিশ্বমানের মোবাইল উৎপাদন ও সংযোজন শিল্প বর্তমানে অস্তিত্ব সংকটে। এনইআইআর সফল হলে দেশি কোম্পানিগুলো নতুন প্রাণ পাবে এবং হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে।
গ্রাহক নিরাপত্তা ও গুজব রোধ: ক্লোন বা নকল ফোন কিনে প্রতারিত হওয়া বন্ধ হবে এবং ভুয়া হ্যান্ডসেট ব্যবহার করে গুজব ছড়ানো ঠেকানো সম্ভব হবে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, এনইআইআর কেবল একটি প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নয়, এটি নিরাপদ রাষ্ট্র গড়ার প্রথম ধাপ। কোনো গোষ্ঠীর স্বার্থে যেন এই জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি আবারও থমকে না যায়, সেদিকে সরকারকে কঠোর নজর রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।





















