তীব্র সামাজিক সমালোচনার মুখে অবশেষে বাতিল করা হলো ‘এক মিনিট প্রতীকী ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট’ কর্মসূচি। জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থান স্মরণে ঘোষিত ৩৬ দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই প্রতীকী ব্ল্যাকআউটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) সকালে সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সারওয়ার ফারুকী তার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হ্যান্ডেলে এক পোস্টের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত বাতিলের কথা জানান।
পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, পরিকল্পনা পর্যায় থেকেই এই কর্মসূচিটি নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বিধা ছিল এবং এটিকে কয়েকবার বাদ দেওয়ার পরও আলোচনার টেবিলে এটি পুনরায় অন্তর্ভুক্ত হয়। তিনি লেখেন, “অনেক বড় কর্মসূচি এবং বড় একটা দল কাজ করলে এরকম দুয়েকটা ভুল চোখের আড়ালে থেকে যায়। যাই হোক, আমরা কৃতজ্ঞ আপনাদের কাছে, সেই কর্মসূচি নিয়ে আপনাদের মতামত জানানোর জন্য।”
উপদেষ্টা আরও জানান, দ্রুত নিজেদের মধ্যে সভা করে ‘এক মিনিট প্রতীকী ইন্টারনেট ব্ল্যাক আউট’ কর্মসূচিটি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং শিগগিরই সংশোধিত কর্মসূচি প্রকাশ করা হবে।
গত বছরের জুলাইয়ে দেশব্যাপী ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের মতো কর্মসূচি দেওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই এর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং তীব্র সমালোচনা করেন। মূলত এই জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েই সিদ্ধান্তটি পরিবর্তন করা হলো।
পোস্টের শেষে মোস্তফা সারওয়ার ফারুকী লেখেন, কর্মসূচির বাকি অংশ অপরিবর্তিত থাকছে। তিনি সবাইকে পুনরায় একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “চলুন, আমরা আবার যুক্ত হই, সংগঠিত হই এবং সেই জুলাই আগুনকে নতুন করে জ্বালিয়ে তুলি।”
প্রসঙ্গত, গত ২৫ জুন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে ৩৬ দিনের ‘জুলাই স্মৃতিচারণ’ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। গত বছর জুলাই অভ্যুত্থানের সময় তৎকালীন সরকারের নির্দেশে দেশে প্রায় ১১ দিন ইন্টারনেট সেবা পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছিল, যা ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে দীর্ঘতম ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট। সেই ঘটনার স্মরণে এই প্রতীকী কর্মসূচিটি রাখা হয়েছিল।





















