প্রায় ১ ঘণ্টার জন্য ইন্টারনেটে বহির্বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল চীন। যদিও এ সময় স্থানীয় সাইটগুলোয় প্রবেশ করতে পারছিলেন চীনা ইন্টারনেট গ্রাহকরা। স্থানীয় সময় ২০ আগস্ট গভীর রাতে হঠাৎ বৈশ্বিক ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে গোটা দেশ। সম্প্রতি এমন ঘটনার কারণ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে। প্রশ্ন উঠেছে, এটি কি শুধুই প্রযুক্তিগত ত্রুটি, নাকি সরকারের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কোনো পরীক্ষামূলক প্রয়োগ। খবর ইন্ডিয়া টুডে।
প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, চীনে ২০ আগস্ট রাত ১২টা ৩৪ মিনিট থেকে ১টা ৪৮ মিনিট পর্যন্ত (বেইজিং সময়) প্রায় ১ ঘণ্টা বৈশ্বিক ওয়েবসাইটগুলোয় প্রবেশ বন্ধ ছিল। এ সময় দেশের ভেতরে থাকা ব্যবহারকারীরা আন্তর্জাতিক সাইটে প্রবেশ করতে ব্যর্থ হন। যদিও অভ্যন্তরীণ ওয়েবসাইটগুলোয় কোনো সমস্যা হয়নি।
ঘটনাটি প্রথম শনাক্ত করে অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট গ্রুপ গ্রেট ফায়ারওয়াল রিপোর্ট। প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই সময় চীনের সেন্সরশিপ ব্যবস্থা অস্বাভাবিক আচরণ করে। বিশেষভাবে, নিরাপদ ওয়েবসাইটে ব্যবহৃত পোর্ট ৪৪৩ (ওয়েবসাইটে নিরাপদভাবে প্রবেশের মাধ্যম) পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এতে সুরক্ষিত ওয়েবসাইট ও বিদেশী সার্ভারের সেবাগুলো অচল হয়ে পড়ে।
এ বিভ্রাটের প্রভাব পড়ে বিভিন্ন অ্যাপ ও আন্তর্জাতিক সেবায়ও। অ্যাপল আইক্লাউড, টেসলার সংযুক্ত গাড়িসেবা ও বহু ক্লাউড প্লাটফর্ম ওই সময় ব্যবহার করা যায়নি।
চীনে ‘গ্রেট ফায়ারওয়াল’ নামে পরিচিত ইন্টারনেট সেন্সরশিপ বহু বছর ধরে চালু আছে। তবে হঠাৎ সারা দেশে পোর্ট ৪৪৩ বন্ধ হওয়া বিশেষজ্ঞদের কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। সাধারণত রাজনৈতিক অনুষ্ঠান বা সংবেদনশীল সময়ে এমন কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। কিন্তু ওই রাতে কোনো বিশেষ ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে প্রযুক্তি ওয়েবসাইট দ্য রেজিস্টার।
গ্রেট ফায়ারওয়ালের প্রতিবেদন জানিয়েছে, এ ঘটনায় ব্যবহৃত যন্ত্র কোনো পরিচিত সেন্সরশিপ প্রযুক্তির সঙ্গে মেলে না। তাদের ধারণা, এটি নতুন প্রযুক্তি পরীক্ষার অংশ ছিল অথবা নেটওয়ার্ক কনফিগারেশনে ভুল হয়েছিল।
ঘটনার সময় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কারণ এর কয়েক ঘণ্টা আগে পাকিস্তানেও বড় ধরনের ট্র্যাফিক পতন ঘটে।
নেটব্লকস জানিয়েছে, পাকিস্তান চীনা প্রযুক্তি দ্বারা প্রভাবিত সেন্সরশিপ ব্যবহার করে। তবে দুটি ঘটনার মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক আছে কিনা, তা স্পষ্ট নয়।
তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত বেইজিং সরকার কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।






















