নানা আলোচনা সমালোচনার মধ্যে বিটিআরসি ২৬ ধরনের লাইসেন্সে বিপরীতে চারটি লাইসেন্স রেখে অনুমোদন দেয়া হয়েছে ‘টেলিকমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক অ্যান্ড লাইসেন্সিং-২০২৫’ নামের নীতিমালা। নতুন এই নীতিমালায় লাইসেন্সিং রেজিমে যুক্ত হয়েছে স্যটালাইট ইন্টারনেট। আর পরিবর্তন ঘটেছে আইটিসি, আইআইজি এবং আইজিডব্লিউ লাইসেন্সের পরিধিতে।
এখন এই লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানগুলো এক লাইসেন্সে তিন ধরনের কাজই করতে পারবে। অর্থাৎ যারা আইটিসি করতো তারা এখন আইআইজি করতে পারবে, যারা আইজিডব্লিউ করতো তারা এই সবগুলো সেবা দিতে পারবে।
এছাড়াও আগে ন্যাশনাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার লেআউট তৈরি করে পৃথক লাইসেন্স ছাড়াই ফাইবার নেটওয়ার্ক, টাওয়ার ব্যবসা, ডেটা সেন্টারের মতো অবকাঠামো খাতে ব্যবসা করতে পারবেন বিনিয়োগকারীরা। অর্থাৎ এই ক্ষেত্রে সুবিধা বেড়েছে মোবাইল অপারেটরদের। তাদেরকে অপারেটর থেকে লাইসেন্সি নামে একীভূত করা হয়েছে। পাশাপাশি শতভাগ বিদেশী মালিকানা থেকে বের হতে আগামী তিন বছরের মধ্যে পুঁজিবাজারে অন্তত ১৫ শতাংশ শেয়ার ছাড়ার শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে।
নতুন নীতিমালায় নিম্নোক্ত পাঁচটি বিস্তৃত শ্রেণির একটি সরলীকৃত ও প্রযুক্তি-নিরপেক্ষ লাইসেন্সিং কাঠামো প্রণয়ন করা হয়েছে। এগুলোকে Access Network Service (ANSP), National Infrastructure and Connectivity Service Provider (NICSP), International Connectivity Service Provider (ICSP), Non-Terrestrial Network and Service Provider (NTNSP) এবং Telecom Enabled Service Provider (TESP) হিসেবে অখ্যায়িত করা হয়েছে।
এর মধ্যে এএনএসপি লাইসেন্সধারীরা সেলুলার মোবাইল এবং ফিক্সড টেলিযোগাযোগ সেবাদানকারী হিসেবে সরাসরি গ্রাহকদের সেবা দেবে। এনআইসিএসপি’রা জাতীয় পর্যায়ে টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো, যেমন—ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক এবং টাওয়ার সুবিধা প্রদান করবে। আইসিএসপি’রা আন্তর্জাতিক ভয়েস কল, ইন্টারনেট এবং ডেটা সংযোগের দায়িত্বে থাকবে। আর এনটিএনএসপি’রা স্যাটেলাইট এবং অন্যান্য নন-টেরিস্ট্রিয়াল (ভূমিহীন) নেটওয়ার্ক-ভিত্তিক সেবা প্রদান করবে।
এছাড়াও, টেলিকম-ভিত্তিক সেবা, যেমন—এসএমএস অ্যাগ্রিগেটরদের জন্য ‘টেলিকম এনাবলড সার্ভিস প্রোভাইডার (TESP)’ নামে একটি তালিকাভুক্তি বা এনলিস্টমেন্ট ক্যাটাগরি রয়েছে নতুন লাইসেন্স রেজিমে।
এর ফলে ইন্টারন্যাশনাল গেটওয়ে (IGW), ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে (IIG), ইন্টারকানেকশন এক্সচেঞ্জ (ICX) এবং মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি (MNP) বিলুপ্ত হতে যাচ্ছে। আর ন্যাশনাল ইন্টারনেট এক্সচেঞ্জ (NIX), কল সেন্টার, টেলিকম ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস (TVAS) এবং ভেহিকল ট্র্যাকিং সার্ভিস (VTS) লাইসেন্সগুলোকে নিয়ন্ত্রণমুক্ত বা ডি-রেগুলেট করা হচ্ছে। তবে তৃণমূলের আইসপি-দের লাইসেন্সের মধ্যে রাখা হলেও ন্যাশনাল আইএসপি থেকে তাদের জন্য নিয়ম-কানুন শিথিল থাকছে।
নীতিমালায় ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের জন্য সর্বনিম্ন ১৫ এমবিপিএস এবং মোবাইল ইন্টারনেটের জন্য গতি ১০ এমবিপিএস বেঁধে দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এই গতি নিয়মিত পরীক্ষার অধীনে আনার বিষয় অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।
ফাইবারেইজেশন বাড়াতে গুরুত্বারোপ করে নীতিমালায় বলা হয়েছে, বর্মতানে দেশের মাত্র ২০ শতাংশ টাওয়ারে ফাইবারাইজেশন আছে। আগামী তিন বছরের মধ্যে এটা ৮০ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। সারাদেশে একটি কাভারেজ লেয়ারের সঙ্গে একাধিক ক্যাপাসিটি লেয়ার তৈরির সুযোগ রাখা হয়েছে।
অপরদিকে ভেন্ডর, ডোমেইন রেজিস্ট্রার, আইপিআরএস (ইন্টারন্যাশনাল পেমেন্ট রিচার্জ সিস্টেম) এবং অনুরূপ পরিষেবা এবং প্রতিষ্ঠানের জন্য বিদ্যমান তালিকাভুক্তি এবং অনুমোদ বলবৎ রাখা হয়েছে। সুবিধা মিলছে ক্লাউড ব্যবসাতেও। কেননা, এই ব্যবসায়টিতে ডিরেগুলারাজেশনের অধীনে আনা হয়েছে।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, এর ফলে লাইসেন্সধারীরা ফাইবার, ওয়্যারলেস, স্যাটেলাইট বা ক্লাউড/এজ কম্পিউটিং ইত্যাদি যে কোনো উপযুক্ত প্রযুক্তি ব্যবহার করে উদ্ভাবনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারবে। খসড়া নীতিমালায় ইন্টারকানেকশন ও পিয়ারিং-এর ক্ষেত্রে আইপি -ভিত্তিক ট্রাফিক কাঠামো বাস্তবায়নের মাধ্যমে পরিচালন ব্যয় হ্রাস করবে এবং সেবার গুণগত মান উন্নত হবে।






















