সরকারের সদ্য ঘোষিত ‘টেলিকমিউনিকেশনস নেটওয়ার্ক অ্যান্ড লাইসেন্সিং পলিসি ২০২৫’ নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ এই নীতিমালাকে ‘পুরনো ব্যবস্থার নয়া বন্দোবস্ত’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন, নতুন লাইসেন্সিং ব্যবস্থা প্রকারান্তরে নতুন দুর্নীতির সুযোগ তৈরি করতে পারে।
এক বিবৃতিতে মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, “আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম, নতুন নীতিমালায় গ্রাহকের অধিকার প্রতিষ্ঠা হবে, দুর্নীতি কমবে এবং নেটওয়ার্কের মান উন্নয়ন হবে। কিন্তু এখানে নতুন যে সকল লাইসেন্সের বন্দোবস্ত করা হয়েছে, তা একপ্রকার নয়া দুর্নীতির বন্দোবস্ত বলা যেতে পারে।”
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “আপাতত দলীয় না হলেও (এই নীতিমালার মাধ্যমে) স্বজনপ্রীতি হতে পারে। এখানে কাউকে কাউকে স্থায়ী বন্দোবস্ত করে দেওয়া হয়েছে, আবার অনেক ইন্ডাস্ট্রি (যেমন: আইজিডব্লিউ, আইআইজি, আইসিএক্স) বিলুপ্ত করে দেওয়া হয়েছে।”
নীতিমালার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও বলেন, “এর সুফল যদি জনগণ এবং রাষ্ট্র না পায়, তাহলে এই পলিসির মাধ্যমে বর্তমান সরকার কী অর্জন করতে চায়?”
সম্প্রতি সরকার টেলিযোগাযোগ খাতে সংস্কারের অংশ হিসেবে ২০১০ সালের পুরনো নীতিমালা বাতিল করে নতুন এই নীতিমালা প্রকাশ করে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই নীতির লক্ষ্য হলো টেলিযোগাযোগ খাতের জটিলতা কমিয়ে একটি বিনিয়োগ-বান্ধব ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করা। এর আওতায় আইজিডব্লিউ, আইআইজি, আইসিএক্স-এর মতো একাধিক লাইসেন্স বিলুপ্ত করে চারটি নতুন শ্রেণিতে লাইসেন্স দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
তবে গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের এই সমালোচনার ফলে নীতিমালার স্বচ্ছতা এবং এর প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে জানতে বিটিআরসি বা ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের কোনো কর্মকর্তার তাৎক্ষণিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।






















