“স্যার, আমরা ইন্টারনেট অফিস থেকে এসেছি,”—এই বলে ঘরে ঢুকেই ল্যাপটপ, মোবাইল ব্যাংক ও ক্রেডিট কার্ড থেকে সোয়া লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে গেছে এক অভিনব প্রতারক চক্র। সম্প্রতি রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে, যা ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি করেছে।
ভুক্তভোগী রাহাত (ছদ্মনাম), যিনি একটি বেসরকারি আইটি কোম্পানিতে কর্মরত, তার বাসায় ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর সার্ভিস প্রোভাইডারকে কল করলে এই প্রতারণার শিকার হন।
যেভাবে ঘটল প্রতারণা
ঘটনার দিন শুক্রবার সকালে রাহাত তার ইন্টারনেট সংযোগে সমস্যা হওয়ায় তার ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারকে (আইএসপি) ফোন করেন। আইএসপি থেকে জানানো হয়, দ্রুতই একটি ফিল্ড টিম পাঠানো হবে।
প্রতারকদের প্রবেশ: এর আধা ঘণ্টার মধ্যেই দুজন পুরুষ ও একজন নারীর একটি দল ইউনিফর্ম এবং আইডি কার্ড পরে রাহাতের ফ্ল্যাটে এসে নিজেদের আইএসপির টেকনিশিয়ান হিসেবে পরিচয় দেয়। রাহাত তাদের বিশ্বাস করে ভেতরে আসতে দেন।
ডিভাইসের অ্যাক্সেস গ্রহণ: ঘরে ঢুকেই তারা স্পিড টেস্ট করার কথা বলে রাহাতের অফিসের ল্যাপটপ চেয়ে নেয় এবং ওয়াইফাই পাসওয়ার্ডও জেনে নেয়।
ওটিপি (OTP) হাতিয়ে নেওয়া: এরপর দলের একজন জানায়, বিলিং সংক্রান্ত কনফার্মেশনের জন্য রাহাতের ফোনে একটি ওটিপি (OTP) পাঠানো হয়েছে। সরল বিশ্বাসে রাহাত সেই ওটিপি তাদের দিয়ে দেন, যা আসলে ছিল তার ব্যাংক অ্যাপে লগইন করার কোড।
টাকা লোপাট ও চম্পট: মিনিট দশেকের মধ্যেই “একটি পার্টস আনতে হবে” বলে প্রতারক চক্রটি চলে যায়। এর পরপরই রাহাতের ফোনে তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ৮৫,০০০ টাকা তুলে নেওয়ার নোটিফিকেশন আসে। তিনি দ্রুত ব্যাংকে যোগাযোগ করার আগেই তার মোবাইল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং ক্রেডিট কার্ড থেকেও টাকা তুলে নেওয়া হয়। মোট খোয়া যায় প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা।
পরে রাহাত তার আসল ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারের সাথে যোগাযোগ করলে তারা জানায়, তাদের পক্ষ থেকে কোনো টেকনিশিয়ান পাঠানোই হয়নি। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতারকরা এখন আরও বেশি সংগঠিত এবং বিশ্বাসযোগ্য উপায়ে মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছে। তাদের পরামর্শ—
১. পরিচয় যাচাই: বাড়িতে কোনো টেকনিশিয়ান এলে, ঘরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির হেল্পলাইনে ফোন করে তাদের পরিচয় (নাম ও আইডি নম্বর) নিশ্চিত করুন।
২. ওটিপি (OTP) শেয়ার না করা: মনে রাখবেন, ওটিপি (OTP) অত্যন্ত গোপনীয়। ব্যাংক, মোবাইল ব্যাংকিং বা অন্য কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মী পরিচয়ে চাইলেও কখনো ওটিপি শেয়ার করবেন না।
৩. ব্যক্তিগত ডিভাইস না দেওয়া: টেকনিশিয়ানদের কাজ করতে আপনার ব্যক্তিগত ল্যাপটপ বা মোবাইল ফোন দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
৪. সন্দেহজনক আচরণ: বিলিং বা অন্য কোনো অজুহাতে ব্যক্তিগত তথ্য চাইলে সতর্ক হোন এবং কল সেন্টারে ফোন করে বিষয়টি জানান।






















