দেশের বৃহত্তম মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোনের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের পছন্দের সুযোগ সীমিত করে একচেটিয়াভাবে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। গ্রাহকরা বলছেন, সাশ্রয়ী মূল্যের ছোট ছোট মিনিট কার্ড এবং জনপ্রিয় ভয়েস কল রেট কাটার অফারগুলো বাজার থেকে তুলে নিয়ে তাদের ব্যয়বহুল প্যাকেজ কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে, যা এক ধরনের ‘লুটপাট’ এবং ‘প্রহসন’-এর শামিল।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং বিভিন্ন গ্রাহক ফোরামে এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ব্যবহারকারীরা। তাদের অভিযোগ, গ্রামীণফোন তাদের বিশাল গ্রাহক ভিত্তিকে পুঁজি করে একতরফাভাবে শর্ত চাপিয়ে দিচ্ছে, যা গ্রাহক স্বার্থের পরিপন্থী।
যেসব পরিবর্তনে গ্রাহকরা ক্ষুব্ধ:
১. ছোট মিনিট কার্ডের অনুপস্থিতি: একসময় যে ২০ টাকার মিনিট কার্ড বাজারে সহজলভ্য ছিল, তা এখন আর পাওয়া যাচ্ছে না। বর্তমানে সর্বনিম্ন ৩০ টাকার মিনিট কার্ড কিনতে হচ্ছে গ্রাহকদের। এর আগে ১৯ টাকার স্ক্র্যাচ কার্ডে মিনিটের পরিমাণ বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও (Source 2.2), ছোট অংকের রিচার্জ কার্ডের ঘাটতি রয়েই গেছে।
২. জনপ্রিয় রেট কাটার অফার বন্ধ: গ্রাহকদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় ২৯, ৩৯, ৫৯, ১০৯ টাকার মতো সাশ্রয়ী রেট কাটার অফারগুলো গ্রামীামীণফোন তাদের তালিকা থেকে সরিয়ে দিয়েছে। এর পরিবর্তে, গ্রাহকদের এখন ২০৮ টাকায় ৩০ দিনের জন্য ১ পয়সা/সেকেন্ডের মতো ব্যয়বহুল অফার গ্রহণ করতে বাধ্য করা হচ্ছে (Source 3.2)। এতে স্বল্প আয়ের ব্যবহারকারীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
৩. মেয়াদ কমানোর কৌশল: গ্রাহকদের অভিযোগ, গ্রামীামীণফোন মিনিটের পরিমাণ সামান্য বাড়িয়ে মেয়াদ কমিয়ে দেওয়ার মতো কৌশল গ্রহণ করছে। উদাহরণস্বরূপ, ৩০ টাকার একটি কার্ডে আগে যেখানে ৪০ মিনিট দুই দিন মেয়াদে পাওয়া যেত, সেখানে এখন হয়তো ৪৫ মিনিট দিয়ে মেয়াদ একদিন করে দেওয়া হচ্ছে, যা গ্রাহকের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
৪. ডেটা প্যাকেজের উচ্চমূল্য: ভয়েস কলের পাশাপাশি ডেটা প্যাকেজের দাম নিয়েও গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, অন্যান্য অপারেটররা যে পরিমাণ ডেটা যে দামে অফার করে, গ্রামীামীণফোন সমপরিমাণ ডেটার জন্য তার চেয়ে বেশি দাম রাখছে।
কর্তৃপক্ষের নীরবতা ও গ্রাহকদের প্রতিক্রিয়া:
গ্রাহক হয়রানি নিয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ গ্রামীামীণফোনের বিরুদ্ধেই জমা পড়েছে (Source 1.5)। গ্রাহকদের মতে, সেবার মান নিয়ে অভিযোগ করেও কাস্টমার কেয়ার থেকে যথাযথ সমাধান পাওয়া যায় না (Source 1.1)। অন্যদিকে, গ্রামীামীণফোনের পক্ষ থেকে বরাবরই গ্রাহকসেবার মান বজায় রাখার কথা বলা হলেও, মাঠপর্যায়ের চিত্র ভিন্ন।
এই একচেটিয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। অনেকেই বলছেন, বাজারের শীর্ষস্থানীয় অপারেটর হওয়ায় গ্রামীামীণফোন গ্রাহকদের জিম্মি করে রেখেছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-এর কার্যকর হস্তক্ষেপ ছাড়া এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয় বলে মনে করছেন তারা। এই নীরবতা ভাঙতে এবং ‘লুটপাটের’ জবাব দিতে গ্রাহকরা প্রয়োজনে প্রতিবাদের কথাও ভাবছেন।





















