বিশ্বজুড়ে ২০২৫ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) ফাইভজি সংযোগের সংখ্যা ২৬০ কোটি ছাড়িয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৭ শতাংশ বেশি। টেলিকম সংস্থা ফাইভজি আমেরিকাস ও বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওমডিয়ার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাগুলোর পূর্বাভাস অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে এ সংখ্যা প্রায় ৯০০ কোটিতে পৌঁছাবে।
ফাইভজি আমেরিকাস ও ওমডিয়ার তথ্যানুযায়ী বিশ্বব্যাপী ফাইভজি সংযোগ গ্রহণের গতি ফোরজির তুলনায় চার গুণ বেশি। ফাইভজি আমেরিকাসের সভাপতি ভিয়েত এনগুয়েন বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী ফাইভজি প্রযুক্তি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে, বিশেষ করে উত্তর আমেরিকায়। এখানে ফাইভজি গ্রহণের প্রবণতা ও ডাটা ব্যবহার অনেক বেশি।’
ওমডিয়ার প্রধান বিশ্লেষক ক্রিস্টিন পলিন বলছেন, ‘ফাইভজি এখন শুধু মোবাইল বা ইন্টারনেট সংযোগের জন্য নয়, বরং ইন্টারনেট অব থিংসসহ (আইওটি) পণ্য পরিবহন ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে ব্যবহার হচ্ছে। একে ডিজিটাল রূপান্তরের মূল প্রযুক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।’
এরিকসনের হালনাগাদ মবিলিটি রিপোর্টে জানা যায়, ২০২৩ সাল শেষে ফাইভজি নেটওয়ার্ক সংযোগের সংখ্যা ১৭৬ কোটি ছাড়িয়েছে। ফাইভজি আমেরিকাসের প্রতিবেদনের বরাতে টেকটাইমস প্রকাশিত খবরে এ তথ্য উঠে এসেছিল।
এরিকসনের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছর বিশ্বের ফাইভজি নেটওয়ার্ক ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়বে। একই সঙ্গে মোট মোবাইল ব্যবহারকারীর ৬০ শতাংশই যুক্ত থাকবে ফাইভজি নেটওয়ার্কে।
প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী বর্তমানে বিশ্বে তিন শতাধিকের বেশি কমিউনিকেশন সার্ভিস প্রভাইডার (সিএসপি) ফাইভজি সংযোগ সরবরাহ করছে। এদের মধ্যে ৫০টির বেশি প্রতিষ্ঠান ফাইভজি এসএ চালু করেছে।
চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বিশ্বব্যাপী ডাটা ব্যবহার আগের বছরের তুলনায় ১৫ শতাংশ বেড়ে ৩৮ কোটি টেরাবাইট ছাড়িয়েছে। মূলত ভিডিও স্ট্রিমিং, গেমিং ও শিল্পক্ষেত্রে ডিজিটাল রূপান্তরের কারণে ডাটার ব্যবহার বাড়ছে বলে মত দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। একই সময় আইওটি সংযোগের সংখ্যা বেড়ে ৩৮০ কোটি হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে এসব ডিভাইস ৫০০ কোটিতে পৌঁছাবে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।
ফাইভজি প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত তথ্য ও দিকনির্দেশনা দিয়ে গত জুলাইয়ে একটি বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদন প্রকাশ করে ফাইভজি আমেরিকাস। প্রতিবেদনে ‘ফাইভজি অ্যাডভান্সড ওভারভিউ’ নামে একটি ধারণার কথা উল্লেখ করা হয়। এতে বিস্তারিতভাবে বলা হয়েছে, কীভাবে ফাইভজির পরবর্তী ধাপ অর্থাৎ ফাইভজি অ্যাডভান্সড ওয়্যারলেস বেতার সংযোগে বিপ্লব ঘটাবে এবং ভবিষ্যতের সিক্সজি প্রযুক্তির পথ প্রসারিত করবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফোরজির তুলনায় সর্বশেষ প্রজন্মের এ নেটওয়ার্ক দ্রুতগতির ডাউনলোড স্পিড, বেশি ডাটার আদান-প্রদান ও কম ল্যাটেন্সির মতো নানা সুবিধা দিচ্ছে। ফলে আগামী পাঁচ বছরে বিশ্বব্যাপী মাসিক মোবাইল ডাটার ব্যবহার ৩০০ এক্সাবাইট (১০ লাখ টেরাবাইটে ১ এক্সাবাইট) ছাড়িয়ে যাবে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি।






















