অবৈধ মোবাইল ফোনের বাজার বন্ধ করে বছরে ২,০০০ কোটি টাকার রাজস্ব আয় এবং ১০,০০০ কোটি টাকার ডলার পাচার বন্ধের ‘মহৎ উদ্যোগ’ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। কিন্তু সরকারের এই ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (NEIR) ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগকে প্রতিহত করতে একটি শক্তিশালী মাফিয়া চক্র আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
অভিযোগ উঠেছে, সাবেক সরকারের আমলে শীর্ষ মহলের (জুনাইদ আহমেদ পলক, সজীব ওয়াজেদ জয় ও সালমান এফ রহমান) সরাসরি সুরক্ষায় থাকা এই সিন্ডিকেটটিই এখন এনইআইআর (NEIR) সিস্টেমের বিরুদ্ধে ‘গুজব’ ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়িয়ে এই উদ্যোগকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করার চেষ্টা করছে।
এই পরিস্থিতিতে, সরকারের এই ‘মহৎ উদ্যোগ’ বাস্তবায়ন করা প্রধান উপদেষ্টার আইসিটি উপদেষ্টা ফাইজ তাইয়েব আহমেদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ এবং পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চ্যালেঞ্জটি কার বিরুদ্ধে? এনইআইআর (NEIR) সিস্টেম চালুর ঘোষণা আসার পর থেকেই ‘গ্রে-মার্কেট’ সিন্ডিকেটের হোতারা এটি বন্ধ করতে মাঠে নেমেছে। এই চক্রের নেতৃত্বে ‘সুমাস টেক লিমিটেড’-এর সিইও আবু সাইদ পিয়াস এবং ‘টেক অ্যান্ড টক বিডি’-এর সিইও মোঃ আনিসুর রহমান সোহেলের নাম প্রকাশ্যে এসেছে।
অভিযোগ, এই চক্রটিই ‘এনইআইআর চালু হলে হারানো ফোন খুঁজে পাওয়া যাবে না’—এমন অদ্ভুত ও ভিত্তিহীন ‘গুজব’ ছড়িয়ে সাধারণ গ্রাহক ও খুচরা ব্যবসায়ীদের বিভ্রান্ত করছে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সিন্ডিকেটের আসল ভয় অন্য জায়গায়। এনইআইআর (NEIR) চালু হলে:
- তাদের হাজার হাজার কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকির ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে।
- অবৈধ ফোন আমদানির আড়ালে বছরে ১০,০০০ কোটি টাকার বেশি ডলার পাচার (হুণ্ডি) বন্ধ হবে।
- ‘দুবাই ফেরত’ রিফারবিশড আইফোন ও ক্লোন ফোন বিক্রি করে গ্রাহকদের প্রতারিত করার সুযোগ থাকবে না।
- ২,৫০০ কোটি টাকার দেশীয় মোবাইল উৎপাদন শিল্প সুরক্ষা পাবে, যা এই সিন্ডিকেটের কারণে ৪০% ধ্বংস হয়ে গেছে।

ফাইজ তাইয়েবের সদ্য পাস হওয়া ‘ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা আইন’ নিয়ে আইসিটি উপদেষ্টা ফাইজ তাইয়েব আহমেদ নিজেই তার ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেছিলেন যে, একটি ভালো কাজ করতে গিয়ে তাকে এবং তার টিমকে “প্রচণ্ড রকম যুদ্ধ করতে হয়েছে”, “অনেক যন্ত্রণা দেওয়া হয়েছে” এবং দেশ-বিদেশ থেকে “সংঘবদ্ধ প্রোপাগান্ডা” চালানো হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ডেটা সুরক্ষা আইনের চেয়েও এনইআইআর (NEIR) চালুর লড়াই আরও কঠিন হবে। কারণ এখানে হাজার হাজার কোটি টাকার অবৈধ অর্থের লেনদেন, ডলার পাচারকারী এবং সাবেক সরকারের সুবিধাভোগী শক্তিশালী চক্র সরাসরি জড়িত।
সাবেক সরকারের আমলে ২০২১ সালে এই সিন্ডিকেটের তদবির ও শীর্ষ মহলের নির্দেশেই এনইআইআর (NEIR) সিস্টেমটি চালু করার পরও তা স্থগিত করে দেওয়া হয়েছিল। সেই চক্রই এখন নতুন সরকারের এই উদ্যোগকে প্রতিহত করতে সক্রিয়।
পারবে কি সরকার? আইসিটি উপদেষ্টা ফাইজ তাইয়েব আহমেদ ‘শক্তিশালী মোরাল’ নিয়ে কাজ করার যে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন, তার আসল পরীক্ষা হবে এই এনইআইআর (NEIR) বাস্তবায়নের মাধ্যমে।
আগামী ১৬ ডিসেম্বর এই সিস্টেম চালুর তারিখ নির্ধারিত হয়েছে। সরকার কি পারবে এই সময়ের মধ্যে ‘গ্রে-মাফিয়া’দের সকল ‘গুজব’ ও ‘তদবির’ প্রতিহত করে সিস্টেমটি চালু করতে? নাকি হাজার কোটি টাকার ডলার পাচারকারী এই সিন্ডিকেটের কাছেই হার মানবে সরকারের ‘মহৎ উদ্যোগ’?—এই প্রশ্নই এখন প্রযুক্তি খাতের মূল আলোচনার বিষয়।






















