অনেক উইন্ডোজ ব্যবহারকারীই অভিযোগ করেন, তাদের কম্পিউটার চালু হতে অনেক সময় নেয়। কাজ শুরু করার আগে কয়েক মিনিট অপেক্ষা করাটা সত্যিই বিরক্তিকর। বিশেষ করে যখন জরুরি কোনো কাজ করতে হয়। তবে সুখবর হলো নতুন কম্পিউটার কেনা ছাড়াও এ ধীরগতির সমস্যা সহজেই সমাধান করা যায়। প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট মেকইউজঅবের (এমইউও) এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, উইন্ডোজ ১০ ও ১১-এর কিছু সহজ সেটিংস পরিবর্তন এবং সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে কম্পিউটারের বুট টাইম বা চালু হওয়ার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। এখানে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে এমন আটটি কার্যকর উপায় তুলে ধরা হলো—
● ফাস্ট স্টার্টআপ বন্ধ করা
‘ফাস্ট স্টার্টআপ’ মূলত উইন্ডোজকে দ্রুত চালু করার জন্য তৈরি করা হলেও অনেক সময় এটি উল্টোভাবে সিস্টেমকে ধীর করে দেয়। সমাধান হিসেবে কন্ট্রোল প্যানেল খুলে Power Options-এ যেতে হবে এবং ‘Turn on fast startup’ অপশনটি বন্ধ করতে হবে। এটি বন্ধ থাকলে আবার চালু করে দেখতে হবে, পার্থক্য হয় কিনা।
● পেজিং ফাইল সেটিংস ঠিক করা
উইন্ডোজ ‘ভার্চুয়াল মেমোরি’ হিসেবে স্টোরেজের একটি অংশ ব্যবহার করে, যাকে পেজিং ফাইল বলা হয়। যদি এর মান ঠিকভাবে নির্ধারণ না করা থাকে, তাহলে বুট টাইম বেড়ে যেতে পারে। এটি ঠিক করতে স্টার্ট মেনুতে Performance লিখে সার্চ দিতে হবে, Adjust the appearance and performance of Windows নির্বাচন করতে হবে এবং প্রস্তাবিত মান অনুযায়ী পেজিং ফাইলের সাইজ ঠিক করতে হবে।
● উইন্ডোজ সাবসিস্টেম ফর লিনাক্স (ডব্লিউএসএল) বন্ধ করা
যদি লিনাক্স টুলস ব্যবহৃত না হয়, তাহলে ফিচারটি বন্ধ রাখা ভালো। Turn Windows features on or off-এ গিয়ে Windows Subsystem for Linux-এর টিকচিহ্নটি তুলে দিতে হবে এবং কম্পিউটার রিস্টার্ট করতে হবে। এতে অনেক সময় বুট টাইম কিছুটা কমে আসে।
● গ্রাফিকস ড্রাইভার আপডেট করা
পুরনো বা ভুল গ্রাফিকস ড্রাইভারও বুট সমস্যার কারণ হতে পারে। এজন্য গ্রাফিকস কার্ড অনুযায়ী Nvidia App, AMD Software বা Intel Driver & Support Assistant ব্যবহার করে ড্রাইভার আপডেট করতে হবে। পাশাপাশি উইন্ডোজ আপডেট করাও ভালো।
● অপ্রয়োজনীয় স্টার্টআপ প্রোগ্রাম বন্ধ করা
অনেক অ্যাপ কম্পিউটার চালুর সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হয়, ফলে বুট টাইম বেড়ে যায়। Ctrl + Shift + Esc চেপে, Task Manager খুলে Startup apps ট্যাবে যেতে হবে এবং অপ্রয়োজনীয় প্রোগ্রামগুলো বন্ধ করতে হবে। এতে সিস্টেম দ্রুত চালু হবে।
● এসএফসি স্ক্যান চালানো
উইন্ডোজের সিস্টেম ফাইল ক্ষতিগ্রস্ত হলে বুট সমস্যা দেখা দিতে পারে। এক্ষেত্রে System File Checker (এসএফসি) স্ক্যান চালিয়ে তা ঠিক করা যায়। Command Prompt- এ গিয়ে sfc /scannow লিখে এন্টার দিতে হবে। এতে এসএফসি কমান্ড ক্ষতিগ্রস্ত ফাইল মেরামত করবে।
● এসএসডি ব্যবহার করা
যদি কম্পিউটারে এখনো পুরনো হার্ডডিস্ক ড্রাইভ (এইচডিডি) ব্যবহার হয়, তাহলে সেটিই ধীরগতির মূল কারণ। হার্ডডিস্কের পরিবর্তে সলিড-স্টেট ড্রাইভ (এসএসডি) ব্যবহার করলে বুট স্পিড ও সামগ্রিক পারফরম্যান্স অনেক বেড়ে যাবে।
● প্রয়োজনে উইন্ডোজ রিসেট করা
সবকিছু করার পরও যদি সমাধান না আসে, তাহলে শেষ উপায় হিসেবে উইন্ডোজ রিসেট করা যেতে পারে। Settings > System > Recovery-তে গিয়ে Reset this PC নির্বাচন করতে হবে। এতে ব্যক্তিগত ফাইল না মুছে উইন্ডোজ নতুন করে ইনস্টল হবে এবং সফটওয়্যারজনিত সমস্যাও দূর হবে।






















